প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ভয়ঙ্কর উত্তাল সাগর। তীব্র জোয়ারের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে উপকূল রক্ষা বাঁধ। হু হু করে লোকালয় ঢুকে পড়ছে সাগরের পানি। প্লাবিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বাগেরহাটের মোংলায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে গেছে একটি ট্রলারও।
রোরবার সকালে মোংলা নদীর ঘাটে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলো তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ জন্য হতে পারে।
রোববার সন্ধ্যা অথবা মধ্যরাত নাগাদ মোংলা ও খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের কেন্দ্র। তবে এরি মধ্যে ঝড়ের অগ্রভাগ পৌঁছে যাওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো ও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দক্ষিণের উপকূলজুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে, রিমালের প্রভাবে উপকূলীয় কয়েকটি জেলার দ্বীপ ও চরে ৮ থেকে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

দুপুর থেকেই দমকা ঝড়ো হাওয়ার শুরু হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। বনভূমি ভূমি ভেসে যাচ্ছে কমপক্ষে পাঁচ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে। ডুবে গেছে হিরণ পয়েন্টের বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মৃতি ফলক। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে লোকালয়। রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চারটি গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত নিচু এলাকা

এর প্রভাবে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল। বাতিল করা হয়েছে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে চার হাজার আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ৫০ শতাংশ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মহিবুর রহমান। উপকূলজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল স্বেচ্ছাসেবক দল। সতর্ক অবস্থায় আছে কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্লাবনের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি