লালনভক্তের ঘর ভাঙায় বিক্ষুব্ধ বিবৃতি

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৪, ০৬:৪১ পিএম

লালনভক্ত এক নারীর ঘর ভাঙচুরের খবরে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের ২৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

তারা বলেছেন, আমরা মনে করি, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, অপরাধীর প্রভাব প্রতিপত্তিতে গুরুত্ব প্রদান প্রভৃতি বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিকাশ ও অপরাধ প্রবণ মনস্তত্ত্ব গঠনে ভূমিকা রাখছে, যা লালন অনুসারী চায়না বেগম কিংবা সংস্কৃতি ও সংস্কৃতজনদের উপর ধারাবাহিক হামলা নির্যাতনের ক্ষেত্র ক্রমাগত সম্প্রসারণ করছে। এমতাবস্থায় সংস্কৃতি ও ভিন্নমত পথের বাধাহীন চর্চা এবং বিকাশে রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিসহ কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

যৌথ বিবৃতিতে সই করেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, রাশেদা কে. চৌধুরী, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি এসএমএ সবুর, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, এমএম আকাশ, ড. জোবায়দা নাসরিন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হাসেম, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ, আনন্দনের প্রধান সংগঠক এ কে আজাদ, লালন অনুসারী ফকির দেবোরাহ্ জান্নাত, রাজন ফকির।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জীবনানন্দ জয়ন্ত, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহা তানজীম তিতিল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, সমাজকর্মী জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, সংস্কৃতিকর্মী অলক দাস গুপ্ত, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) সভাপতি গৌতম শীল।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে বলা হয়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার টাকিমারা গ্রামের একদল বাসিন্দা লালন সাঁইয়ের অনুসারী অশীতিপর বৃদ্ধ চায়না বেগমের বসত ঘর ভেঙে দিয়েছে। এ সময় প্রতিবাদ করায় চায়না বেগম নিজেও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এমনকি আক্রমণকারীরা তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। সংস্কৃতি নির্ভরতায় বিকশিত স্বাধীন বাংলাদেশে লালন অনুসারীর বসতিতে হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় আমরা ব্যথিত-বিক্ষুব্ধ।

বিবৃতি বলা হয়, টাকিমারা গ্রামের হামলার ঘটনাটি বাউল ঘরানার উপর আক্রমণের প্রথম কোনো ঘটনা নয়। প্রায়শই দেশের কোথাও না কোথাও এ ধরনের হামলা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক স্বভাব কবি রাধাপদ সরকারের উপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চায়না বেগমের বসতিতে হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলো। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল শিল্পী ও নাট্যকর্মীর উপর ধারাবাহিক হামলা-নির্যাতন, হেনস্থা, বাউলের বাদ্যযন্ত্র ও পাণ্ডুলিপিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও বরাবরই রাষ্ট্র ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে একদিকে সংস্কৃতি বিরোধী চরম ভাবাপন্ন মানসিকতার সম্প্রসারণ যেমন ঘটছে তেমনি সংস্কৃতি চর্চা ভীতিকর আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হচ্ছে।

বিবৃতি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বলা হয়, ২৬ জুনের হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী চায়না বেগম সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হক, মাতব্বর মোশারফ হোসেন, আনার মণ্ডল, সাইদুল হাজিসহ অজ্ঞাতনামা ৪৫-৫০ জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে বরং কথিত ‘সুষ্ঠু সমাধান’ -এর নামে উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। সেখানে একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হবে। না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তার এ ধরনের বিবৃতিতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। একটি অপরাধের ঘটনায় যখন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনে সোপর্দ করার কথা তখন অপরাধীকে থানায় ডেকে এনে সমাধানের চেষ্টা করার বিষয়টি- আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকাররক্ষণের পরিপন্থি।

বিবৃতি দানকারীরা বলেন, চায়না বেগমের অভিযোগের বিপরীতে কথিত সমাধানের যে সংবাদ পাওয়া গেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক এবং একটি অপরাধকে চাপা দেওয়ার প্রশাসনিক তৎপরতা। একদল গ্রামবাসীর ঘর ভেঙে দেওয়া ঘটনায় থানায় বসে সমাধান কিংবা বৃদ্ধা নারীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্তগ্রহণের মধ্য দিয়ে অপরাধের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া হলো।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, ঘর ভাঙা ও তৎপরবর্তী তথাকথিত সমাধানতত্ত্ব বাংলাদেশের সকল প্রকার সংস্কৃতি এবং ভিন্নমত ও পথের চর্চা বন্ধ করে ধর্মান্ধ-মৌলবাদি মনস্তত্ত্ব গঠন প্রবণতাকে বেগবান করার মধ্য দিয়ে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতার ও সুবিচার নিশ্চিতের সাংবিধানিক অঙ্গিকার পালনকে ব্যহত করবে।

আরও বলা হয়, সংস্কৃতি চর্চায় বিদ্বেষপোষণকারী জনগোষ্ঠীর আস্ফালন রুখে দেওয়াসহ অবাধ-ভীতিমুক্ত সংস্কৃতি চর্চা এবং এ ক্ষেত্রে সরকার ও রাজনীতির দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যম সবসময় সোচ্চার থাকবে- এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।

কেএসএইচ
ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যান প্রদত্ত বক্তব্য বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অসত্য উল্লেখ করে মোট ১৯২ জন বিশিষ্ট বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে তা প্রত্যাখ্যান...
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জর্ডানে...
আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থীরা বর্তমান দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব অভ্যুত্থান...
ঢাকায় কর্মরত কুমিল্লা জেলার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র (সিজেএফডি) নির্বাহী কমিটির নির্বাচন-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদ খান...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর