রেলপথে ঈদযাত্রার শেষ দিনেও কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রিয়জনের কাছে ছুটে গেছেন হাজারো মানুষ। শুক্রবার (৬ জুন) সকাল থেকেই রেলস্টেশনে ছিলো যাত্রী ভিড়। শেষ সময়ে ট্রেনের বগিগুলো ছিলো কানায় কানায় পরিপূর্ণ। টিকিট কাটতে না পেরে, অনেকেই জায়গা করে নিয়েছেন ট্রেনের ছাদে। তবে, ছিলো না সময়সূচি বিপর্যয়ের কোন বিড়ম্বনা। তাই হাসি মুখেই ছুটে গেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেলো রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যস্ত প্লাটফর্মে বাঁশিতে সুর তুলে সবাই বিমোহিত করছেন শ্রীপুরের মামুন, আর তার পাশেই প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ছাদে উঠতে ব্যস্ত সজীব। দু’জনেরই গন্তব্য বাড়ি, উপলক্ষ্য ঈদ।
নাড়ির টানে এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও কর্মব্যস্ত নগর ছেড়ে ট্রেনের ছাদে ঘরমুখো হয়েছে মানুষ। কেউ যাচ্ছেন পরিবারের কাছে, তো কারো যাওয়া পরিবার গড়তে। যাত্রাপথে যত ভোগান্তিই হোক, ঘরে ফেরা মানুষগুলোর কাছে এ যেন ঈদ আনন্দের সূচনা মাত্র।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে অনেকে গ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে ভরপুর। অনেকে বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছেন। বিধিনিষেধ থাকলেও মানবিক কারণে ছাদে ওঠা যাত্রীদের বিষয়ে আজ কিছুটা নমনীয় দেখা গেছে নিরাপত্তাকর্মীদের।
ট্রেনে ঈদযাত্রা গত ১ জুন থেকে শুরু হলেও যাত্রী চাপ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ভ্রমণ সুবিধার্থে ১০টি বিশেষ ট্রেন দেয়া হয়েছে। ঈদের আগে পরে ৯ দিন চলাচল করবে এসব ট্রেন।

দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানান, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় নেই। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ২৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। আজ সারা দিনে যাওয়ার কথা ৬৩টি। বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে।
বছরে দু’বার ঘরে ফেরার যুদ্ধে নামে কর্মব্যস্ত রাজধানীর বাসিন্দারা। তবু টিকিট কাটার যুদ্ধ, যাত্রাপথের ভোগান্তি, টিকিট না পেয়ে ছাদে ওঠার ঝুঁকি, সব কিছুই যেন ফিকে হয়ে যায় বাড়ি ফেরার আনন্দ আর মাটির গন্ধের কাছে।
ঈদের নিরাপত্তা নিয়ে যা জানালো পুলিশ ও র্যাব