সংলাপে বড় ধরনের অগ্রগতি, যা জানালেন ড. আলী রীয়াজ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৫, ০৭:০৬ পিএম

রাষ্ট্রপতিকে দেয়া ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। তাই প্রতিটি দল সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। এদিকে বিভাগীয় পর্যায়ে স্থায়ীভাবেই হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়ে মতামত দিয়েছে রাজনৈতিকদলগুলো। 

ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, সংলাপে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ সংস্কারের বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ছাড় দিয়েছে। 

দ্বিতীয় দফার নবম দিনটিকে ঐকমত্য কমিশনের জন্য বিশেষই বলা যায়। আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) আলোচনার জন্য নির্ধারিত ছিলো দুটি বিষয়। যাতে একমত হয়েছে রজনৈতিকদলগুলো। 

দিনের শুরুতেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা নিয়ে। 

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমা প্রদর্শনের যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তাতে যে কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল কিংবা কর্তৃপক্ষের দেয়া যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে। জনমতের বাইরে গিয়ে, দলীয় সন্ত্রাসীদের ছায়া দিতে ভবিষ্যতে কোনো রাষ্ট্রপতি যাতে এই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে সে লক্ষ্যে এই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ চায় দলগুলো। এক্ষেত্রে ৪৯ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবে একমত দলগুলো। সেখানে অপরাধীকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মতামত অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়।

দ্বিতীয় আলোচনা গড়ায় বিচার বিভাগকে বিকেন্দ্রীকরণের প্রস্তাবে। বিভাগীয় পর্যায়ে স্থায়ীভাবেই হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের মতামত দেয় বিএনপি। ভবিষ্যতের সংকট এড়াতে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেয়ারও পরামর্শ দেয় দলটি।

বৃহস্পতিবারের সভা শেষে বেশ উৎফুল্লই দেখা গেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রপতির হাতের ক্ষমতা অপব্যবহার হয়েছে। প্রতিটি দল উপলব্ধি করেছে যে ৪৯ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রয়োজন।

আলী রীয়াজ বলেন, বিগত দিনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের ৪৯ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছে। এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে; যা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হবে।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানীতে থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ থাকবে। সে বিষয়েও ঐকমত্য হয়।

ড. আলী রীয়াজ জানান, সংবিধানের ৪৯ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে তা হলো ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যে কোনো দণ্ডের ক্ষমা ও বিরাম মঞ্জুর এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে। আইনের দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড, নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণক্রমে ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সংবিধানের ৪৯ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের দেয়া প্রস্তাবের আলোকে যে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এতদিন ধরে এ ক্ষমতার যে অপব্যবহার হয়েছে তা বন্ধ হবে। 

বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ সম্পর্কিত বিষয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে তা উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে প্রধান বিচারপতি সময়ে সময়ে যে সার্কিট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন তার পরিবর্তে রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে। প্রধান বিচারপতি কর্তৃক প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ থাকবে। অর্থাৎ হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে সংবিধানের ১০০ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিবর্তন হবে।

চলতি মাসের মধ্যে জুলাই সনদ প্রণয়নের লক্ষ্যে দলগুলো নিজেদের অবস্থানে ছাড় দিয়ে সামনের দিনগুলোতেও এমন বলিষ্ঠ ভূমিকা নেবে, আশা করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আজকের সংলাপে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আগামী ৭ জুলাই আবার আলোচনা হবে বলে জানায় কমিশন।

সংলাপে কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন– কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং ড. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

এ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা-সম্পর্কিত বিধান এবং বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ বিষয়ে আলোচনা নিষ্পত্তি হয়েছে।

আরবিএস
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, ভোটারদের ৬০ শতাংশের বেশি গণভোটে অংশ নিয়েছেন, যা সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এক শতাংশ বেশি।
অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত সরকার নয়, তাই গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচার করতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে কোনও আইনগত বাধা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর আলী রীয়াজ।
গণভোটে 'হ্যাঁ'র প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনটিটি)- এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয়...
রোববার নিউ জার্সির রাতে লাল জার্সিতে দ্বিতীয় নক্ষত্র খোদাই করে বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস লিখেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ঠিক কী ঘটেছিল...
পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার মোট ১৪ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর