ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, এসব যানবাহনের চলাচলের নির্দিষ্ট পথ, কর প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয় নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রয়োজন এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে বলেও জানান তিনি।
ধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলামটরে প্ল্যানার্স টাওয়ারের বিআইপি কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান এবং টেকসই গণপরিবহন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে শুল্ক কমানো, গবেষণা ও ব্যাংক ঋণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা বাসের ঢাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সিটি বাস টার্মিনাল, ফিটনেসবিহীন বাস ব্যবস্থাপনা, কমিউটার ট্রেন, নৌপথ, মেট্রোরেল ও মনোরেল নিয়ে কাজ চলছে।
সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যানকে প্রচলিত রিকশার সঙ্গে এক করে না দেখে পৃথক মোটরচালিত যান হিসেবে বিবেচনা করে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন। গবেষণায় ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যানের ক্ষেত্রে পরপর দুটি যানের চলাচলের সময়ের ব্যবধানে প্রচলিত রিকশার তুলনায় পার্থক্য পাওয়া গেছে। ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান-এর ক্ষেত্রে এই সময়ের ব্যবধান প্রায় ১ দশমিক ৩ সেকেন্ড, যা হঠাৎ পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দিন হাসান ও পরিকল্পনাবিদ তাহসিন রেজা। এতে বলা হয়, নগরের দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন সমস্যার সমাধানে শক্তিশালী গণপরিবহনের কোনো বিকল্প নেই। তবে রিকশা বা ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ বাদ না দিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।
অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক অধ্যাপক ড. এস. এম. সোহেল মাহমুদ বলেন, এসব যান নিয়ে সুস্পষ্ট নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন। তিনি যন্ত্রাংশ আমদানি, কারখানা ও চার্জিং পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাশ্রয়ী বিকল্প গণপরিবহন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদ আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ব্যাটারিচালিত যানকে লাইসেন্সের আওতায় এনে নির্দিষ্ট স্থান ও জোনে পরিচালনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে মালিক, সরবরাহকারী, চার্জিং স্টেশন মালিক ও আমদানিকারকদেরও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন, সরবরাহ ও চার্জিং নিয়ন্ত্রণ ছাড়া শুধু ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে এসব যান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তিনি পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত বাস বে এবং পার্কিং স্পেসের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ঢাকায় প্রায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালু এবং বাস র্যাশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন কঠিন হচ্ছে। তিনি বাস পরিবহনেও প্রয়োজনীয় সরকারি ভর্তুকির ওপর গুরুত্ব দেন।
বিআইপির সহসভাপতি শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ বন্ধ না করে গণপরিবহনে যাতায়াতের শুরু ও শেষ পর্যায়ের সংযোগে এর ব্যবহার বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব যানের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড প্রণয়নের পরামর্শ দেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। এতে সরকারি কর্মকর্তা, পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিবাসন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও প্রবাসীদের সুরক্ষায় উদ্যোগ: শামা ওবায়েদ
জুলাই শহীদ জুবায়েরের বোনের চিকিৎসা-পরবর্তী খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী