শত্রুপক্ষের যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির বিপরীতে ভৌগোলিক কোনো সীমানার তোয়াক্কা না করে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে খামেনি বলেন, শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনের মুখে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণই ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা’ অর্জনের প্রধান শর্ত।
তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, শত্রুরা যদি আবারও কোনো সামরিক বা সন্ত্রাসী আগ্রাসনের দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই সংঘাতের সমাপ্তি কীভাবে হবে এবং তার শর্ত কী থাকবে, তা নির্ধারণ করবে একমাত্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইরানি জনগণ।
বৈঠকে ইরানের সামরিক তথ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। এছাড়া সামরিক মতবাদ ও কৌশলের ক্ষেত্রে নিজেদের সার্বভৌম প্রতিরক্ষা শক্তি আরও মজবুত করার আহ্বান জানান তিনি।
খামেনির এই কঠোর নির্দেশনার অংশ হিসেবে ইরানের ‘টার্গেটস ব্যাংক’ বা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করা হয়েছে। এই তালিকার মূল লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সকল দৃশ্যমান ও অদৃশ্য কৌশলগত সম্পদ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা এবং যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া। রাজনৈতিক विश्লেষকদের মতে, খামেনির এই সাম্প্রতিক হুংকার মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।
