আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একক ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেই। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভারতকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের দণ্ডিত সব আসামিকে ফেরত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
চব্বিশের পাঁচ আগস্ট ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলন করার পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার নিয়মিত সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমন বাস্তবতায় ভারতের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা বা অন্যদের ফেরত আনার বিষয়ে আমাদের চাওয়া ও আহবান আগের মতোই রয়েছে। বিদেশে বসে তিনি যে ধরনের বক্তব্য বা বাণী প্রসব করছেন, তা এ দেশের মানুষকে আঘাত করে। ভারতীয় হাইকমিশন বিষয়টি স্বীকার করলেও তারা অন্য ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক উন্নয়ন জোর দেওয়ার কথা বলে। তবে শেখ হাসিনাসহ আসামিদের ফেরত দিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হবে।
একদিন আগে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে কমিশনের উচিত ছিলো সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা। আগামী ১২ নভেম্বর নির্বাচনের যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, তা প্রয়োজনে পরিবর্তন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইসির এখতিয়ার তুলে ধরে উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে সংসদ ও জাতীয় সংসদ বা রাষ্ট্রপতি—এই দুটি নির্বাচন করার একক ক্ষমতা রাখে। কিন্তু অন্য স্থানীয় নির্বাচনে কমিশনের সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। সরকার কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নির্বাচন সম্পন্ন করবে, তবে এটিকে কোনো সংঘাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্রিপ্টো ট্রেডিং সংক্রান্ত একটি গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল ফোন ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় বলে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই ক্রিপ্টো ট্রেডিং সমর্থন করে না।
