দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছেই। ২০২০ সালের হিসেবে সারাদেশে মাথাপিছু বছরে প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে ৯ কেজি। আর, ঢাকার মানুষ জনপ্রতি ব্যবহার করছেন ২২ কেজির বেশি।
ইউরোপের তুলনায় অনেক কম প্লাস্টিক ব্যবহার করেও শুধুমাত্র ব্যবস্থাপনার অভাবে প্লাস্টিক দূষণের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এতে হুমকিতে রয়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র।
তাই, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। এখন প্রয়োজন সেটির যথাযথ বাস্তবায়ন।
মানুষের জীবনে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কতটা ব্যাপক তা ভাবাও কঠিন। সকালে উঠে যে ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা হয়, যে টিউব থেকে টুথপেস্ট আসছে, তার সবই প্লাস্টিকের তৈরি।
এ ছাড়া দিনে প্রতিটি খাবার এবং জীবনযাত্রায় প্লাস্টিক পণ্য তো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসার ভেতর থেকে বাইরে সব খানেই প্লাস্টিকের রাজত্ব।
প্লাস্টিক যেহেতু পচনশীল নয়, তাই প্লাস্টিক বর্জ্য যুগের পর যুগ পরিবেশে টিকে থাকে। গবেষণা বলছে সামান্য একটি পলিথিনের ব্যাগ প্রকৃতিতে মিশে যেতে ২০ বছর সময় লাগে।
চা, কফি, জুস কিংবা কোমল পানীয়ের জন্য যেসব প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর ডায়াপার এবং প্লাস্টিক বোতল ৪৫০ বছর পর্যন্ত পচে না।
যখন এসব প্লাস্টিক বর্জ্য কোনো স্থান দখল করে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে তখন প্লাস্টিক দূষণ সৃষ্টি হয়। আর এই দূষণ বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান একটি সমস্যা।
এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে, ২০০২ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়।
এই আইনের পর ২০ বছর পার হয়ে গেলেও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। আইন বাস্তবায়নেও কোনো সদিচ্ছা দেখা যায়নি। এর ফলে পলিথিনের ব্যবহার বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
২০০৫ সালে সারা দেশে পলিথিনের ব্যবহার ছিলো পার ক্যাপিটা তিন কেজি। ২০২০ সালে বেড়ে দাড়ায় পার ক্যাপিটা ৯ কেজি। আর শুধু ঢাকায় এই হার এখন ২২.২৫ কেজি।
এভাবে প্রতি বছর ১৭শ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হবার কারণে, বছরে জিডিপিতে ক্ষতি হচ্ছে ৩.৪ শতাংশ। আর ঢাকার জিডিপির ক্ষতি ০.৭ শতাংশ।
গবেষকরা বলছেন, সময়ের সাথে প্লাস্টিক ব্যবহার বাড়বে। তবে তা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অ্যাকশন হাতে নিয়েছে সরকার।
স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি সহ চারটি ধাপ হাতে নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানো হবে।
২০২৬ সালের মধ্যে একবার ব্যবহৃত হয় এমন পলিথিন ৯০ ভাগ কমানো হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০ ভাগ রি-সাইক্লিং করা হবে।
আর, ২০৩০ সালের মধ্যে করা হবে ৮০ ভাগ। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ ভাগ প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন কমিয়ে আনা হবে।
বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ গবেষক বলেন, ইউরোপের চেয়ে বাংলাদেশ কম পলিথিন ব্যবহার করে। কিন্তু ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বেশি।
আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটির মাঠে কৃষকের ‘হলুদ স্বপ্ন’
অন্যদিকে, বন পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দীন বলেন, মানুষ নিজ দেশে আইন মানে না অথচ বিদেশ গেলে নিয়ম মানে।
পরিবেশ আইনে নিষিদ্ধ পলিথিন সামগ্রী উৎপাদনের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে। কিন্তু এই আইনের বাস্তবায়ন নেই মাঠ পর্যায়ে।
