আলোচিত 'বিজয় দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান চলাকালীন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা'য় অভিযুক্ত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে ঢাকার একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টরের হোটেল ডি মেরিডিয়ানে অভিযান চালিয়ে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান।
বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকেই উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের হোটেল ডি মেরিডিয়ান ঘিরে রাখে র্যাব কর্মকর্তারা। অভিযান শেষে দুপুর বারোটার দিকে হোটেল কক্ষ থেকে মাদকসহ গ্রেফতার করে শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে নিয়ে যাওয়া হয় র্যাব-১ এর কার্যালয়ে।
আরও পড়ুন: পৌর মেয়রের পদ হারালেন পলাতক শাহনেওয়াজ
এসময় র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযান পরিচালনা করে তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া জামালপুরে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি জানান, হোটেলে এসে শাহনেওয়াজ মাদক নিচ্ছিলেন। তিনি একজন মাদকসেবী। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণেই তিনি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে নিজের দাম্ভিকতা দেখাতে শিক্ষা কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলেন। অভিযানে তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। র্যাব এ বিষয়ে মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করবে।
বরখাস্ত ওই পৌর মেয়র বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার কোনও তথ্য তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে মামলা এবং বিজয় দিবসের ওই ঘটনার পর আশ্রয়ের জন্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ অনেক ব্যক্তির শরণাপন্ন হয়েছিলেন কিন্তু কেউ তার সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহের উল্লাহ অভিযোগ করেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় পৌরসভার নাম পাঁচ নম্বরে ঘোষণা করলে মেয়র তাকে গালিগালাজ করেন এবং থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনায় ওই রাতেই দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন মো. মেহের উল্লাহ।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহ। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পৌরসভার নাম ডাকার কথা পাঁচ নম্বরে। কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পৌরসভার নাম ঘোষণা করেন আট নম্বরে। এ নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে, তবে থাপ্পড় মারার অভিযোগ কাল্পনিক ও মনগড়া।
পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করতেই এই ধরনের কাল্পনিক অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন পৌর মেয়র।
এ ঘটনায় গত ২০ ডিসেম্বর তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কারের পর ২১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
ঘটনাপ্রবাহ: দেরিতে নাম ডাকায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে পৌর মেয়রের থাপ্পড়
একাত্তর/এসজে
