গ্যাস না পেয়েও মানুষকে যখন গ্যাসের পুরো বিল দিয়ে যেতে হচ্ছে তখন অতি প্রয়োজনীয় এই জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর চেষ্টা করছে পেট্রোবাংলা ও বিতরণ কোম্পানিগুলো।
এরইমধ্যে বাসাবাড়িসহ সব খাতের গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াতে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ছয়টি বিতরণ কোম্পানি।
অথচ ভোক্তাদের সঠিক মাপে গ্যাস নিশ্চিত করতে যে নির্দেশ দিয়েছিলো কমিশন সেটিও মানেনি কোম্পানিগুলো। যাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলছে ভোক্তা সংগঠন ক্যাব।
ঘরে গ্যাসের লাইন আছে। মাসে মাসে বিলও দিচ্ছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গ্যাস মেলে গভীর রাতে। আবার চলে যায় সূর্য ওঠার আগেই। এমন পরিস্থিতি মিরপুরসহ রাজধানীর অনেক এলাকায়।
সামর্থবানরা লাইনের গ্যাসের পাশাপাশি রাইস কুকার বা সিলিন্ডারের গ্যাস দিয়ে প্রয়োজন মেটান। আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা রাত জেগে রান্নার কাজ সারেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচন কমিশন গঠনে জমা পড়েছে তিন শতাধিক নাম
অথচ গ্যাস না পেলেও ভোক্তাদের দিতে হয় পুরো বিল। প্রি পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের তুলনায় মিটারহীন গ্রাহকদের বিলের পার্থক্যটাও দ্বিগুণ।
অভিযোগ আছে, মিটারহীন গ্রাহকদের কাছ থেকে কমপক্ষে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত আদায় করছে কোম্পানিগুলো।
অথচ সবশেষ গণ শুনানিতেও সব আবাসিক গ্রাহকদের দ্রুত মিটারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু সে ব্যাপারে কোন দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না থাকলেও আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে কোম্পানিগুলো।
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন চেয়ারম্যান আবদুল জলিল জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সহায়তা না থাকায় কোম্পানিগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না কমিশন।
তবে জ্বালানি খাতের আমদানি ও উৎপাদনের গতি অক্ষুণ্ণ রাখতেই দাম বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে দৈনিক ৪৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে৷ অথচ পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস৷
