কারওয়ান বাজারের ১০০ গজের মধ্যে একটি পণ্য তিনবার হাত বদল হয়। আর, তাতেই দাম বেড়ে যায় তিনগুণ পর্যন্ত। কখনও বা তার চাইতে বেশি।
আড়তে ভারতীয় যে পেঁয়াজ ১৪ টাকা কেজি, পাইকারিতে তা বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ টাকা। আর খুচরায় সেটি ৩৫ টাকা। একই অবস্থা মিষ্টি কুমড়াতেও। আড়তের ১০ টাকা কেজির কুমড়া খুচরা বাজারে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, সারাদেশে থেকে আসা কৃষিপণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। যেখানে মাত্র ১০০ গজ দূরত্বে তিনবার হাত বদলে পণ্যে দাম বাড়ে তিন গুণ।
এ বছর পেঁয়াজের আবাদ ভালো, আমদানিতেও কোন ঘাটতি নেই। ভারতের পেঁয়াজ আড়তে বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকা কেজি দরে।
এরপরই একাত্তর চেষ্টা করে ক্রেতা পর্যায়ে গিয়ে একই পেঁয়াজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলে ক্রেতা সেজে অনুসন্ধান।
কারওয়ান বাজারের আড়ত থেকে পাইকারি বাজারের দূরত্ব কয়েক গজ মাত্র। এখানে সেখানে গিয়ে সেই পেঁয়াজের দাম পাওয়া গেলো ২২-২৪ টাকা।
আর পাশের খুচরা বাজারে এসে দেখা গেলো সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজিতে। অথচ প্রত্যেকের দাবি, তারা নাকি বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনেছেন।
কারওয়ান বাজারের আড়ৎগুলো জমজমাট থাকে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। আড়ত থেকে পাইকারি বাজারের দুরত্ব ৫০ গজেরও কম। পাইকারি থেকে খুচরা বাজারের দুরত্ব ৫০ গজ। তবু দাম বাড়ার পক্ষে বিক্রেতাদের যুক্তির অভাব নেই।
পরিবহণ খরচের দিকে নজর দেয়া যাক। আড়তে বড় সাইজের মিষ্টিকুমড়া কেজি ৮-১০টাকা, মাঝারি সাইজের মিষ্টি কুমড়া ১০-১৫ টাকা আর ছোট সাইজের একেকটি বিক্রি হয় ২০-৩০ টাকা। আড়ৎ থেকে পাইকারি বা খুচরা বাজারে নিতে খরচ কেজিতে ৫০ পয়সা।
এভাবেই সব পণ্যের দামই এই বাজারে কদমে কদমে বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত যার খেসারত দিতে হয় ক্রেতাকে। বাজারের এই চক্র ভাঙতে না পারলে মুক্তি নেই বলেই মনে করে ক্রেতারা।
একাত্তর/এআর
