আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ কমানোর পর, প্রতিকেজি চালের দাম কমতে পারে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত। তবে, বাজারে এখনও শুল্ক কমানোর প্রভাব নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুফল মিলতে সময় লাগতে পারে আরও সাতদিন। আমদানিকারকদের আশঙ্কা ভারতে চালের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে শুল্ক কমানোর প্রভাব নাও পড়তে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে প্রতি টন মোট চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ ডলার, যা সপ্তাহ আগে ছিলো ৩৬৫ ডলার পর্যন্ত। সেখানেই কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে দু’টাকা।
এই দামে ভারত থেকে আমদানি করার পর ঢাকা পর্যন্ত পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক খরচ কেজি প্রতি চার টাকা। ফলে শুল্ক কমানোর সুফল ততটা পাওয়া যাবে না।
আমদানিকারক চিত্ত মজুমদার বলছেন, ভারত থেকে আনা মোটা চালের গড় দাম হতে পারে ৪৮ টাকা এবং সরু চালের দাম ৬৮ টাকা।
তিনি বলেন, শুল্ক কমানোর কারণে দাম হয়তো তেমন একটা কমবে না। তবে ইতিবাচক দিক হলো, মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাটি থামবে। এখন অনেকেই চাল আমদানি শুরু করবেন।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকার যদি বাজারে চাল বিক্রি বাড়ায়, তার একটা প্রভাব পড়তে পারে।
তবে, দু’চার টাকা কমে এই চাল পেতে ভোক্তাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও সপ্তাহখানেক। তাই শুল্ক কমানোর প্রভাব নেই বাজারে।
খুচরা পাইকারি সবখানেই আগের বাড়ন্ত দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। ক্রেতাদের অভিযোগ, এদেশে দাম কমার নজির নেই। আর চাল তো একটু একটু করেই বেড়েই চলছে।
পাইকারদের দাবি, আমদানির খবরে এরই মধ্যে মিলার পর্যায়ে মজুদ করা চাল বাজারে ছাড়তে শুরু হয়েছে তোড়জোর ফলে, অন্যান্য চালের দামও কমবে।
গেল জুলাইতে চালের দাম কমাতে ১০ লাখ টন চাল বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাইয়ের প্রথম ১৩ দিনে আমদানি হয়েছে ৪৫ হাজার টন চাল।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, ঢাকার বাজারে এক কেজি মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম উঠেছে ৫৫ টাকা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই দাম বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এর আগে ২০১৭ সালের শেষ দিকে মোটা চালের দাম কেজিতে ৫০–৫২ টাকায় উঠেছিলো।
একাত্তর/এআর
