শস্যের শুকনো বীজ গহনায় রূপান্তরিত করেছেন চারুকলা থেকে
পাস করা মাধুরী সঞ্চিতা। তার
গহনাই হয়ে উঠেছে প্রকৃতির উপাদান।
প্রাকৃতিক রংয়ের ব্যবহার তার গয়নাকে আরো আকর্ষণীয় করেছে। লাল চন্দনবীজ থেকে শুরু করে কৃষ্ণচূড়ার বীজ,প্রায় ৫০ ধরনের বীজ নিয়ে কাজ করছেন এই উদ্যোক্তা।
আদিকাল থেকেই নারীর সাজসজ্জায় জড়িয়ে আছে গহনা। সময়ের সাথে সাথে গয়নার ডিজাইন আর উপাদানে এসেছে বৈচিত্র্য।
স্বর্ণ, রূপা, তামা বা পাথর পুঁতির গহনার প্রচলন থাকলেও, চা বা কফির বীজ দিয়ে তৈরি গহনার কথা কি শুনেছেন? এমন ব্যতিক্রমী গয়নাই তৈরি করছেন ডিজাইনার ও মাধুরী সঞ্চিতা।
শস্যের শুকনো বীজ দিয়ে গহনা তৈরি করে মাধুরীর ‘ঋ’ নামে অনলাইনশপ এখন বেশ জনপ্রিয়। তুলসি, হরিতকি, রুদ্রাক্ষ, তেঁতুল,করলা, কৃষ্ণচূড়াসহ নানান বীজের গহনা পাওয়া যায় ঋ'তে।
চারুকলায় পড়াশোনা শেষে ২০০৮ সাল থেকে ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেন মাধুরী । রঙ, যাত্রা, আড়ং, অরণ্য, ফ্রেন্ডশিপের মতো প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক দশক কাজ করেছেন।
তবে, নিজস্বতা তুলে ধরতে সব ছেড়ে ছুঁড়ে মাধুরী সঞ্চিতা ২০১৮ সালে শুরু করেন বীজ দিয়ে বাহারি গহনা তৈরির কাজ।

শুরুটা অন্য সব ক্ষুদ্র উদ্যেগের মতোই বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিলো। পচনশীল উপকরণ শস্যবীজ দিয়ে তৈরি গহনা টেকসই করা ছিলো প্রায় অসম্ভব।
প্রায় ৫০ প্রজাতির বীজ নিয়ে কাজ করছেন মাধুরী। গয়নায় সুতা, কাঠ, মাটি, শঙ্খ, মুক্তা, সোনা, রুপা, তামার সঙ্গে ব্যবহার করছেন বিভিন্ন বীজ।
মাধুরী জানান, বীজ প্রসেসিং করা বেশ ব্যয়বহুল। তাই গহনার দামটাও একটু বেশি। অনেকে এই বিষয়টি বুঝতেও চান না বলে সমস্যায় পড়তে হয়।
সঞ্চিতার ঋ'তে কাজ করছেন আটজন নারী। তবে গয়নার নকশা করেন তিনি নিজেই। দেশের সব নারীর গয়নার বাক্সে কমপক্ষে একটি বীজের গয়না থাকবে এমন স্বপ্ন তার।
ঋ মূলত অনলাইনে সক্রিয় টোটাল ফ্যাশন ব্র্যান্ড। শাড়ি, কুর্তি, ব্যাগ, স্কার্ফসহ ওমেন ফ্যাশনের সব আইটেম নিয়ে ঋ কাজ করছে। তবে বীজের গহনা ঋ-এর স্বকীয় ধারার কাজ।
মাধুরী বলেন, শুধুমাত্র প্রাকৃতিক উপাদান বীজ, মাটি, কাঠ,কড়ি ও সুতার সঙ্গে সোনা-রুপা, তামা, পিতল, লোহার মতো ধাতু দিয়ে বানানো গহনার জন্য দেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান ঋ।
