রাজধানীর ইব্রাহিমপুর থেকে চুরি হওয়ার ১২ দিন পর ২৬ দিন বয়সী এক নবজাতককে উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আর্থিক সহায়তাসহ মা-বাবার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে শিশুটিকে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি কেউ। গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, তদন্তের খবর টের পেয়ে চোরের দল শিশুটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
গেলো ২০ ডিসেম্বর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে চুরি হয় ২৬ দিনের শিশুটি। মামলার তদন্তে নেমে শতাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা পুলিশ।
এতে শিশুটিকে নিয়ে এক ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা হয়।
এরপর ডিবি মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনাল টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে চুরি হবার ১২ দিন পর ইব্রাহিমপুরের একটি জায়গায় কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে যায়।
গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি মিরপুর বিভাগ শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শিশুর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
পরে শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে ডিএমপি মিরপুর এলাকা থেকে শিশুকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শিশু চুরির ঘটনায় চোরকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শিশুটি চুরি যাবার পরে তাকে খোঁজার খরচ যোগাতে ঘরের খাট বিক্রি করে বাবা মা। সন্তানকে ফেরত না পেলে শেষ অবলম্বন ভ্যান বিক্রি করে গ্রামের বাড়ি চলে যাবার প্রস্তুতি ছিলো তাদের।
এমন সময় শিশুটিকে উদ্ধারের খবর দেয় পুলিশ। রোববার শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। সেই সাথে দেয়া হয় ২০ হাজার টাকা অনুদান।
রোববার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে মা ঝুমা বেগম ও বাবা জুলহাসের হাতে ২০ হাজার টাকাসহ উদ্ধার নবজাতক শিশুকে তুলে দেন হারুন-অর-রশীদ।
আরও পড়ুন: আনন্দ উচ্ছ্বাসে সারাদেশে বই উৎসব, ছিল ঘাটতিও
সময় শিশুটির মা ঝুমা বেগম জানান, শিশু সন্তান ইব্রাহিমকে বিছানায় রেখে কাজের জন্য ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন। ঘরে ফিরে দেখেন শিশু ইব্রাহিম বিছানায় নেই।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন তারা। হারিয়ে যাওয়া শিশু সন্তানকে ১২ দিন পর কোলে ফেরত পেয়ে ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
একাত্তর/আরএ
