রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকার ভবনে বিস্ফোরণে নিহতরা নিউ জেনারেশন নামের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জানান, মালিককে বহুবার বলেও ভবনটি সংস্কার করা যায়নি। এর আগেও এই ভবনে কয়েকবার আগুন লেগেছিল।
বিস্ফোরণে আহত চার জনের চিকিৎসা চলছে ঢাকা মেডিক্যালে, পাঁচ জন আছেন শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে এবং পপুলার হাসপাতালে চলছে তিন জনের চিকিৎসা। আহতদের মধ্য দুই একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
দূরারোগ্যে রোগে এক মাস আগেই ১২ বছরের মেয়েকে হারিয়েছেন এক মা। সেই নারী এবার হারিয়েছেন তার ষাটোর্ধ্ব স্বামী আব্দুল মান্নানকে। শাহিদা বেগমের বিলাপে ভারি হয়ে উঠছিলো হাসপাতালের পরিবেশ। তাকে কোনো ভাষায় সান্ত্বনা দিতে পারছিলেন না কেউ।
৩৫ বছর ধরে নিউ জেনারেশন কোম্পানির কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করছিলেন আব্দুল মান্নান। প্রতিদিনের মতো আজও অফিসে আসেন সকাল ৯টায়। কিন্তু এটাই ছিলো তার শেষ অফিস। মান্নান রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা ছিলেন।
একই প্রতিষ্ঠানে ২২ বছর ধরে কাজ করতেন শফিকুজ্জামান। তিনি নিউ জেনারেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর ছিলেন। তিনিও এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আকলে স্বামীকে হারিয়ে তার স্ত্রীর কান্নাও যেন থামছিলো না। শফিকুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে।
নিউ জেনারেশন কোম্পানির লায়রা প্রোডাক্টস নামে প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী তুষারও মারা গেছে এই ঘটনায়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জানান, ভবনটির ভগ্নদশা নিয়ে বারবার ভবন মালিকের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
রোববার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ের শিরিন ম্যানশন ভবনটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিন তলা ভবনটির একটি দেয়াল আংশিক ধসে পড়ে এবং ভবনটিতে আগুন লেগে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের ভবনও কেঁপে উঠে।
বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের চেষ্টায় বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয় ১১টা ৪৪ মিনিটে।
এই ঘটনায় আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল, শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট এবং পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের কয়েকজনের অবস্থা শঙ্কাজনক। শিরিন ম্যানসন নামে ভবনটির মালিক শিরিন শারমিন আমেরিকায় থাকেন বলে জানিয়েছে ভাড়াটিয়ারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীনরা হলেন, জাকির হোসেন জুয়েল (৩৫), মেহেদী হাসান (২৫), তাজ উদ্দিন (৩০), কবির হোসেন (৩০), রাবেয়া খাতুন (২৫), নুর নবী (২৪), কামাল হোসেন (৪০) ও অজ্ঞাত একজন (৪০)। আহতদের অধিকাংশই পথচারী ও দোকান কর্মচারী। আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
ঢামেক জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন বলেন, আমরা আট জনকে পেয়েছি। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকি বেশিরভাগ নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনজুরি আছে। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিস্ফোরণের সম্ভাব্য চার কারণ জানালো পুলিশ
বিস্ফোরণের পর আগুনের ঘটনায় দগ্ধ নুর নবী (২৩), আকবর আলী (৫২), আশরাফুজামান (৩৬), আশা (২৫), হাবিবুর রহমান (৩২) ও জহুর আলীকে (৫২) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের জানান, আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত ছয় জন চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের কয়েক জনের স্বল্প বার্ন রয়েছে। এছাড়াও কয়েক জন ২০ থেকে ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। তাদের সবার চিকিৎসা চলছে।
একাত্তর/এসি
