১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানিয়ে দিচ্ছে দালালরা। একটি পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সময় তদন্ত করতে গিয়ে এমন এক চক্রের খোঁজ মিলেছে, যারা রীতিমত আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানিয়ে রোহিঙ্গাদের পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ নানা দেশে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর জনসন রোডে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার চক্রটির সাত সদস্যকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- হাবিব উল্লাহ ওরফে আবু হোজাইফা ওরফে আবু বক্কর (৪৯), মঞ্জু মোর্শেদ (২৯), সাফায়েত আহমেদ সাহিদ (৩২), সামিউল হক ওরফে রাজু, নুর আলম (২৭), আবেদ হোসেন (২৭) ও রোহিঙ্গা নাগরিক রিয়াজুল হক ওরফে রিয়াজ (১৯)।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৯টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও তিনটি পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, এই দালালদের চক্রে কক্সবাজার টেকনাফের স্থানীয় শক্তিশালীরা তো বটেই, আছে কিছু ট্যুর কোম্পানিও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পাসপোর্ট অফিসেও চক্রটির সদস্যরা আছে বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।
পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি ফাতেমা নামে এক নারীর পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করতে আশুলিয়ায় যান পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক সদস্য। সেখানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরে তার হয়ে আবেদ হোসেন নামে একজন কাগজপত্র এনে নিজেকে ফাতেমার দেবর বলে দাবি করেন। তবে তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।

এরপর তার দেয়া তথ্যমতে নুর আলমকে এবং তাদের দুজনের তথ্যে এক রোহিঙ্গাসহ আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকেই জানা যায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী পাসপোর্ট তৈরি ও বিদেশে পাঠানোর তথ্য।
পুলিশ জানায়, চক্রটি কাজ করে কয়েক ধাপে। প্রথমে চক্রটির মূল হোতা আবু বকর কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রিয়াজের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংগ্রহ করতো। চুক্তি অনুযায়ী তাদের ২০ হাজার টাকায় ভুয়া জন্মনিবন্ধনসহ পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় ভুয়া নথি বানিয়ে দেয় পল্লবীর চমক কম্পিউটার এন্ড কম্পোজের দোকানের মনজু ও সাহিদ।
মায়ের স্বপ্ন ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের রাজু ও নূর ৫০ হাজার টাকায় ভুয়া নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট বানানোর কাজ করতো। রাজু পাসপোর্ট অফিসের আনসার আবু সালেককে টাকা দিতো। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অন্যান্য কাজে ২০ হাজার আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আরও ২০ হাজার টাকা দেয়া হতো পাসপোর্ট অফিসকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।
সবশেষে পাসপোর্ট হয়ে গেলে অ্যাডভেঞ্চার হলিডে ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের আরিফ ভিসা বানিয়ে দিলে রাজু বিমান টিকেট কেটে দিতো। হুজাইফা ভিসাসহ রোহিঙ্গাদের বিদেশে পাঠাতো।
আরও পড়ুন: ৯৯ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদনের সময়
চক্রটির হাত ধরে অনেক রোহিঙ্গা পাসপোর্ট পেয়ে বিদেশে চলে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে কক্সবাজার টেকনাফের স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, এসবি ও পাসপোর্ট অফিসের কারা জড়িত জানতে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে আসামিদের।
তবে এখন পর্যন্ত তারা কতজন রোহিঙ্গাকে এই পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ দিয়েছে তা জানা যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার।
একাত্তর/এসজে
