তেল-গ্যাসে সমৃদ্ধ দেশ কাতারও জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতিতে বিশ্বাসী। সাশ্রয়ী জ্বালানি বিদ্যুতে চলে দেশটির গণপরিবহন। অথচ ছয় বছর আগে বাংলাদেশের গণপরিবহনে বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় এখনই বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
কাতারের রাজধানী দোহায় এনার্জি কার্যালয় সংলগ্ন বাস থামার জায়গা নির্দিষ্ট। কিছুক্ষণ পরপর একেকটি বাস আসে আর যাত্রী নিয়ে চলে যায় গন্তব্যে। তেল-গ্যাসে সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রপ্তানি করছে।
কাতারের মাথাপিছু আয়ও বিশ্বের শীর্ষে। প্রতি লিটার অকটেনের দাম ৬৩ আর ডিজেল ৬১ টাকা। অথচ সাশ্রয়ী জ্বালানি বিদ্যুতে চলে ধনী এই দেশটির গণপরিবহন।
বাংলাদেশের জ্বালানির একটা বড় অংশই আমদানি নির্ভর। তারপরও গণপরিবহন চলে তেল ও গ্যাসে। অথচ গেলো ছয় বছর ধরে বিদ্যুতের দাম নির্ধারনের সময় গণপরিবহনের জন্য সাশ্রয়ী একটি দাম নির্ধারণ করে আসছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
অর্থাৎ গণপরিবহনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে শিল্পখাতের চেয়েও কম দামেই সেটি ব্যবহারের সুযোগ আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশের কোনো বাসই বিদ্যুতে চলছেনা। বিদ্যুতে গণপরিবহন চললে জ্বালানি খরচ চারভাগের একভাগে নেমে আসবে বলে জানালেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
তিনি বলেন, বিদ্যুতে যেসব গাড়ি চলে সেগুলোর জ্বালানি সক্ষমতা ৮০ শতাংশ। আর তেলে চলা গাড়ির জ্বালানি সক্ষমতা ২০ শতাংশ। আমরা চাই এটিকে প্রচার করতে। তাহলে মানুষ স্বস্তি পাবে, দামও কমবে।
গত মে মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই ঢাকা নগর পরিবহনের বহরে বিদ্যুৎচালিত ১০০টি নতুন বাস যুক্ত করা হবে।
বিদ্যুৎচালিত গাড়ি নামানোর বিষয়ে ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে ২০০ কোটি ডলারের সমঝোতা চুক্তি হয়, যা দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নামে পরিচিত।
জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় বিআরটিসির জন্য ৩০০টি বিদ্যুৎচালিত দ্বিতল এসি বাস সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারই প্রথম চালানের ১০০ বাস অক্টোবরে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
জ্বালানি ব্যয় কমাতে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এখনই বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন নিশ্চিত করার কথা বললেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমামের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের জন্য বড় আকারের পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়ন প্রয়োজন। সেদিকে নজর দেয়ার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বিদ্যুৎচালিত পরিবহনে ঝুঁকছে বিভিন্ন দেশ। এটিকেই সমাধান বলছেন বিশেষজ্ঞরাও।
একাত্তর/এসজে
