রাজধানীর ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আব্দুর রহিম শেখ, ফাতেমা বেগম, হেলাল খান, আনোয়ার হোসেন এবং ইসরাফিল আমিন।
এ সময় উদ্ধার করা হয় প্রায় অর্ধকোটি জাল টাকাসহ টাকা তৈরির সরঞ্জাম। গোয়েন্দারা জানান, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে পশুর হাট ও মার্কেটগুলোকে টার্গেট করে জাল টাকা ছড়ানোর পরিকল্পনা করছিলো এই চক্র।
ভাটারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে জাল টাকা তৈরির রীতিমতো কারখানা গড়ে তুলেছিলো একটি চক্র। নিমিষেই তৈরি হয়ে যাচ্ছিলো বিভিন্ন ধরনের চকচকে নোট।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে সেখানে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি দল।
ছয় তলা ভবনের এই ফ্লাটে শুধুমাত্র প্রিন্টার দিয়েই কোটি কোটি টাকার জাল নোট ছাপাচ্ছিলো চক্রটি। স্বামী-স্ত্রী মিলে গেলো ১০ বছর ধরেই তারা এই কাজ করে আসছিলো।
তাদের ছাপানো জাল নোট কিনে বাজারে ছাড়ারা কাজ করছিলো আরেকটি চক্র। জালনোট ছাপায় যুক্তরা জানান, ১০০ নোটের এক বান্ডেল জাল টাকা তৈরিতে খরচ ৭-৮ হাজার টাকা।
প্রতি বান্ডেল পাইকারি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পাইকাররা আবার এগুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।
আর জাল টাকার কারবারিরা কখনো কখনো গহনা, কাপড় চোপড়, ভোগ্যপণ্য এমনকি পশুর হাটে বিক্রি করে ছড়িয়ে দিয়ে থাকে বলেও জানান তারা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, কারখানাটি থেকে এক হাজার ও পাঁচশ’ নোটের প্রায় ৪৩ লাখ জালনোট, ল্যাপটপ, কালার প্রিন্টার, জালনোট তৈরির কাগজ, নিরাপত্তা সুতার বান্ডেল, লেমিনেটিং মেশিন, কাটার, বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগোসহ বিশেষ কাগজ জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বিভিন্ন উৎসবে বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে জাল টাকা তৈরি চক্র, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়।
তাই, কোরবানির হাটে নগদ ক্যাশ বহন না করে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য অনুরোধ করেন ডিবির এই কর্মকর্তা।
একাত্তর/এআর
