সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে সাইবার কমিউনিটি। একই সঙ্গে ধর্ষকের বিচার ও নারীর প্রতি সহিংসতায় অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সাতটি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তাদের দাবিগুলো হলো-
- ধর্ষণে অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে হবে।
- প্রতিটি ধর্ষণ মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করতে হবে এবং ৩০ কার্য দিবস এর মধ্যে ধর্ষকের বিচার কাজ করে সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর করতে হবে।
- ধর্ষকের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ঘোষণা করতে হবে ও ধর্ষকের ফাঁসির রায় কার্যকর পর্যন্ত যে কয়দিন কারাগারে থাকবে তাকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো খাবার দেওয়া যাবে না, তার খাবার পরিবার বহন করবে।
- ভিকটিম পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে ও বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে ধর্ষণের শিকার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
- দ্রুত যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি সেল তৈরি করে ওই সেলের আলাদা একটা হেল্প লাইন চালু করতে হবে।
- সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে কেউ মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করলে তাকেও সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
- সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তার পুরো তালিকা ও ধর্ষণে জড়িত থাকা কত জনকে এখন পর্যন্ত প্রশাসন গ্রেপ্তার করতে পেরেছে তা জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সাত দফা দাবি যদি অন্তবর্তী সরকার মেনে না নেয় তাহলে সাইবার কমিউনিটি পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে বড় ধরণের হামলা চালানো হবে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়ে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধর্ষণের খবর পাওয়া মাত্র মাঠ পর্যায়ে গিয়ে এর সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সংবাদমাধ্যম মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাইবার কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাকিব আহমেদ তুহিন বলেন, ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলা নারী নির্যাতনের এই প্রতিটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের অবিলম্বে যথাযথ শাস্তির দাবি করছি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমাদের আহবান- নারী নির্যাতনসহ সব নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোরভাবে দমন করে দেশে ন্যায়বিচার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।
সেই সঙ্গে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যদি আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
