রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অবস্থা আবারও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে পঞ্চম দফায় আবারও খালেদার লিভারে রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আনা দেশের চিকিৎসায় সম্ভব নয়।
গেল ২৬ দিন ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার রাতে তিনি হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখেছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁকে জানানো হয়েছে পঞ্চম দফায় আবারও খালেদার রক্তক্ষরণ হয়েছে। যা নিয়ে চিকিৎসকরাও নিরুপায় বোধ করছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব।
বুধবার (৮ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা জানান।
আরও পড়ুন: আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দেন, প্রধানমন্ত্রীকে মুরাদ
তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে গিয়েছিলাম হাসপাতালে। সব চিকিৎসক সেখানে ছিলেন। তিনি আবার সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছেন। আবার তার রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষা করার জন্য তাকে দ্রুত অবিলম্বে এক মুহূর্ত দেরি না করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো প্রয়োজন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার যে ধারায় খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে, সেই ৪০১ ধারায় বিদেশে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেটা তুলে নিলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যেতে পারবেন।
খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের আবেদন বাতিল করা তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, পাসপোর্টের আবেদনটাও বাতিল করে দিয়েছেন। এটা আপনারা যে মাঝে মাঝে বলছেন আমরা চিন্তা করছি, তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। অবিলম্বে তার পাসপোর্ট দিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের কোনো অবনতি হলে, কোনো অঘটন ঘটলে, তার সমস্ত দায়-দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।
সরকার শুরু থেকেই বিএনপি নেত্রীর বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা চিকিৎসার সুবিধা করছেন না। আপনারা দেখেছেন, সুস্থ অবস্থায় হেঁটে তিনি কারাগারে গিয়েছিলেন’।
ফখরুল আরো যোগ করেন, ‘কয়েকবছর ওই কারাগারে থাকার ফলে তার চিকিৎসা না হওয়ায় আজকে এমন একটা অবস্থা হয়েছে যে, তিনি এখন আইসিইউতে ২৬ দিন ধরে সেখানে আছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে তার স্বাস্থ্যের অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, মনিটরিং করা হচ্ছে, তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে’।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের উদ্যোগে এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের শওকত মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিয়াজুল ইসলাম রিজু, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের শামীমুর রহমান শামীম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কাদের গনি চৌধুরী, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের জাকির হোসেন, শেখ আমজাদ আলী, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, আবদুল আউয়াল, আবদুর রহমান, সেকান্দার আলী, কামরুন্নাহার লিজি, রোকেয়া চৌধুরী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন।
