২০১৩ সালের ৫ মে সমাবেশকে উপলক্ষ করে ঢাকা শহরে অবর্ণনীয় তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। এদিন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অবরোধ করে এবং শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে ব্যাপক সহিংসতা চালায়। ঘটনার আট বছর পর এ নিয়ে হেফাজতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন কোন অবস্থানে রয়েছে সে প্রশ্নের উত্তর জানতে বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাতে একাত্তর জার্নালে আমন্ত্রণ জানানো হয় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি ওসমান গণি চৌধুরীকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল হেফাজত কর্মীদের আক্রমণের শিকার একাত্তর টেলিভিশনের সংবাদকর্মী নাদিয়া শারমিন। তিনি এসময় তার উপরে চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
এ ঘটনার ব্যাখ্যা হিসেবে মুফতি ওসমান গণি বলেন, হেফাজতের একটি কুচক্রী মহল তাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য সংগঠনের নাম কলুষিত করছে।
সাংবাদিক জুলহাস আলম তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, হেফাজত তাদের মতাদর্শ নিয়ে কোন ধরনের সমাজ বাংলাদেশে বিনির্মাণ করতে চান।
এর উত্তরে ওসমান গণি বলেন, আল্লামা শফি হেফাজতকে কোন রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেননি। কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো কিংবা ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্য নিয়ে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হয়নি। আল্লামা শফি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সর্বস্তরের তৌহীদি জনতা নিয়ে একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একটি চিহ্নিত মহল ২০১৩ সাল থেকে সংগঠনের সদস্যদের ভুল পথে পরিচালিত করছে।
কিন্তু হেফাজতের কোন কর্মকাণ্ডে অরাজনৈতিক দলের কোন চিহ্ন দেখা যায়নি, প্রশ্ন রাখেন জুলহাস আলম। এর উত্তরে মুফতি ওসমান গণি বলেন, ৫ এপ্রিলের লংমার্চ সফল হওয়ার পর কিছু ব্যাক্তিতাদের রাজনৈতিক উত্থানের সিঁড়ি হিসেবে হেফাজতে ইসলামকে ব্যবহার করার চেষ্টা চালায়। তিনি বারবার হেফাজতকে একটি অরাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করেন।
ওসমান গণির কাছে সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল, এখন যারা সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আছেন তারা তখনও প্রথম সারির নেতাই ছিলেন। ওই ঘটনার পর আট বছরেও কোন ক্ষমা চাওয়া হয়নি কিংবা সেদিনের সহিংসতামূলক আচরণের জন্য দায়ী যারা তাদেরকে দুষ্কৃতিকারী বলে স্বীকার করা হয়নি। তাহলে আট বছর পরে এসে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা, আর ৫ মে কেই বা তারা কিভাবে মুল্যায়ন করেন।
মুফতি ওসমান সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আল্লামা শফি কাউকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করার উদ্দেশ্যে হেফাজত গঠন করেননি কিন্তু সমাবেশের কিছু কিছু বক্তা ভাষণে সে কথা বলেছিলেন।
২০১৩ সালে ঘোষিত হেফাজতের ১৩ দফা দাবির মধ্যে বেশ কিছু দফা ছিল যা বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থী। এর মধ্যে একটি হলো চতুর্থ দফা, যেখানে নারী পুরুষের ‘অবাধ বিচরণ’ বন্ধ করতে বলে হয়। এই ‘নারী পুরুষের অবাধ বিচরণ’ বলতে কি বোঝান হচ্ছে, জানতে চেয়েছিলেন অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার। তিনি আরও জানতে চান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হেফাজতের সহিংসতার শিকার একজন নারীর কাছে মুফতি ওসমান ক্ষমা চাইবেন কিনা।
জবাবে ওসমান গণি বলেন, তিনি হেফাজতে ইসলামের কোন মুখপাত্র নন। ঘটনার দিন তাদের উপর নির্দেশ ছিল কারো উপর কোন ধরনের সহিংসতামূলক আচরণ করা যাবে না। সেদিন দুষ্কৃতিকারীরা মিডিয়ার কাছে তাদের ভাবমূর্তি কলুষিত করার উদ্দেশ্যে এমন কাজ করে।
সাংবাদিক জুলহাস আলম উল্লেখ করেন, হেফাজত কাউকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায় না কিন্তু তারা নিজেরাই ক্ষমতায় যেতে চায়। তারা যে সমাজ বিনির্মাণ করতে চায় তা করতে হলে তারা কি ধরনের সংগঠন সেটি পরিস্কার করা প্রয়োজন।
উত্তরে ওসমান গণি বলেন, ইসলামের বিকাশ এবং আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হয়েছে।
একাত্তর/এসজে
