শনিবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগীয় শহর বরিশালে বিএনপি গণসমাবেশ। সমাবেশের একদিন আগেই সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে শহরটি অন্য সব জেলা ও উপজেলাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শহরের ভেতরেও যানবাহনের সংখ্যা খুব কম।
বিএনপির বরিশাল জেলা শাখা ও কেন্দ্রীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিধিনিষেধ আর সড়ক ও মহাসড়কে তল্লাশি চৌকি বসানোর কারণে বরিশাল শহরে প্রবেশের মতো কোন পরিস্থিতি নেই। তবে এরপরও গণসমাবেশ সফল হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন তারা।
গণসমাবেশে যোগ দিতে এরই মধ্যে বরিশাল পৌঁছেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে বরিশাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তারা।

বিএনপি নেতাদের এ দলের মধ্যে আছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।
বরিশাল বিমানবন্দরে তাঁদের বরণ করে নেন গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবেদিনসহ আরও অনেকে। এ সময় নেতাকর্মীদের ভিড় সামলাতে নিরাপত্তাকর্মীদের হিমশিম খেতে দেখা যায়।
বরিশালে বিএনপির পঞ্চম বিভাগীয় গণসমাবেশ। গেল চারটি বিভাগীয় গণসমাবেশে যে ধরনের বাধার মুখে পড়েছিলো বিএনপি, তার চেয়ে খানিকটা বেশি বাধার মুখে পড়েছে বলে জানালেন বরিশাল বিভাগের গণসমাবেশে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীরা।

দক্ষিণাঞ্চলে চলাচলের অন্যতম মাধ্যম নদীপথে চলছে না। মালিক সমিতির কার্যালয়ও বন্ধ। লঞ্চ চালক এবং শ্রমিকদের অনেকেই বলছেন কি কারণে বন্ধ আছে লঞ্চ চলাচল তারা জানেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রমিকরা জানালেন, গণসমাবেশের ভয়েই চলছে না লঞ্চ।
বরিশালের কেন্দ্রী বাস টার্মিনালেও দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি বাস। শুক্রবার ভোর থেকে, কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বরিশাল শহরে ঢোকার প্রায় সবগুলো পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। টার্মিনালে বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন বাস শ্রমিক ও কর্মীরা।
বরিশাল শহরের ভেতরেও যান চলাচল নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ দোকান পাটও বন্ধ। এমন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে একদিন আগেই সমাবেশ যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে স্থলে বরিশাল এসেছেন হাজারো নেতাকর্মী। যে যেভাবে পেরেছেন সেভাবে এসেছেন।

পরিস্থিতি আগে থেকে বুঝতে পেরে বিএনপির গণসমাবেশস্থলে শুক্রবার সকাল থেকেই বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দলটির নেতা-কর্মী, সমর্থকেরা আসতে শুরু করেন। আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী রাত যাপন করেছেন।
কেউ মাইক্রোবাসে, কেউ ছোট ট্রাকে, ট্রলার ও মালবাহী কার্গো জাহাজে করে শত শত নেতা-কর্মীকে আসতে দেখা গেছে। সমাবেশস্থলের কাছে কীর্তনখোলা নদীর চাঁদমারী ও কেডিসি ঘাটে নেমে মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আসছেন তাঁরা। সঙ্গে এনেছেন বিছানাপত্র, খাবার ও পানি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান বলেন, বাস, লঞ্চ, তিন চাকার যান বন্ধ করে মানুষকে আটকে রাখা যাবে না। সমাবেশস্থলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন।
নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে, যাকে বিএনপি বেলস পার্ক বলে সেখানে এখন সমাবেশের প্রস্তুতি কাজ চলছে। বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে শনিবার। চট্টগ্রামে সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি তাদের এ কর্মসূচি শুরু করেছিলো। পরে খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুরে সমাবেশ করেছে দলটি।

মূলত নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন, গুম ও খুনের প্রতিবাদ, দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মুক্তিসহ নানা দাবিতে বিএনপি গণসমাবেশের এই ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু করেছে। এটি শেষ হবে ঢাকার সমাবেশের মধ্য দিয়ে।
এদিকে, শুক্রবার বিকেল থেকে বরিশাল মহানগর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন মহল্লায় মোটরসাইকেল নিয়ে মিছিল ও মহড়া দিতে শুরু করেছেন। এ সময় তারা বিএনপিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
