দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে হামলা করেছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পুলিশের দাবি, যানবাহনে আগুন দেওয়াসহ স্থানীয় দোকানপাটেও হামলা চালিয়েছে সরকারবিরোধী দলের লোকজন। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি’র নেতারা বলেছেন, তারা পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হয়েছেন।
সরকার হটানোর আন্দোলনে তৃণমূলের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে শনিবার দেশের সব ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি। একই দিনে সারাদেশের ইউনিয়নে শান্তি সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিলো উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ। সতর্ক অবস্থান নেয় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
শনিবার বিকালে নোয়াখালীর সেনবাগের ছাতারপাইয়া বাজারে ছিলো আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ। অন্যদিকে ১০দফা দাবিতে ছিলো বিএনপির পদযাত্রা। পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচির এক পর্যায়ে বিএনপির পদযাত্রা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশের দিকে এগিয়ে গেলে শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।

সকালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শান্তি সমাবেশের প্রস্তুতির জন্য পাইকপাড়া মোড়ে সমবেত হয়। এ সময় বিএনপি’র পদযাত্রায় অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ সময় চোরাগুপ্তা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ১৩টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। এছাড়া অন্তত ১০ দোকান ভাঙচুর ও মালামালসহ নগদ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর জেলা যুবদল সভাপতিসহ ৩৮ জনকে আটক করে পুলিশ।
তবে, সংঘর্ষের জন্য দুই দলই একে অপরকে দোষারোপ করছে। সিরাজগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ হাবিবে মিল্লাত দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে। স্থানীয় দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পরিকল্পিতভাবে হামলা হয়েছে।

অন্যদিকে, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, পদযাত্রায় অংশ নিতে নেতাকর্মীরা পাইকপাড়া গ্রামে জড়ো হতে থাকে। কিন্তু সকাল থেকে বিএনপির পূর্বঘোষিত সমাবেশ স্থলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। এনিয়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে সংঘর্ষ বাধে।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজারে বিএনপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা এবং আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পাল্টাপাল্টি এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভিযোগ, পদযাত্রা থেকে বিএনপি কর্মী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) উঁচিয়ে হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন পদযাত্রার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বিএনপির পদযাত্রা থেকে একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করতে দেখা গেছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় জামালপুর। এ সময় পুলিশ এসে ফাঁকা গুলি ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ৪০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় আটক করা হয়েছে বিএনপির ছয়জনকে।
জামালপুর সদর থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, শান্তি সমাবেশের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কামালখান মোড়ে জড়ো হলে সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করে। হামলায় তিতপল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দৌলতুজ্জামান আনসারী ও পুলিশের কনস্টেবল মুক্তার আলীসহ কয়েকজন আহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের ৩৪টি ফাঁকা গুলি এবং ছয়টি কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় তিতপল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, পদযাত্রা কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় তিতপল্লার কামাখান মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এ সময় পুলিশ গুলিবর্ষণ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
নাটোরে বিএনপির পদযাত্রা এবং আওয়ামী লীগের সারাদেশে শান্তি সমাবেশে পালন করতে গিয়ে ২ দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শনিবার সকালে জেলার পীরগঞ্জ, মাধনগর ও পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির সমাবেশে এসব হামলা হয়।
সকালে নাটোর সদর উপজেলার পীরগঞ্জ বাজারে বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষাভ সমাবেশ পালন করতে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে সমাবেত হতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের বাগবিতণ্ডার আএক পর্যায়ে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ওসি আবুল কালাম জানান, বিএনপির সমাবেশে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। কেউ আহত হয়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তোজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভেঙে পড়লো সূর্যের অংশ, বিজ্ঞানীরা হতবাক
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।
বিএনপির অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মহাসড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানালে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, রাস্তা অবরোধ করে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে কর্মসূচি পালন করছিল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তাদের সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু অনুরোধ না শুনে পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ অ্যাকশনে যায়।
