ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে উদ্ধার করাই বিএনপির প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এজন্যই মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। বিএনপি নেতারা আরও বলেন, গুম-খুন করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দখল করতে দেবে না জনগণ।
রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেরানীগঞ্জের নবাবগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচির আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, গ্যাস বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলসহ জিনিসপত্রের দাম কমানো, সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কেরানীগঞ্জে এই পদযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সমাবেশপূর্বে অপর এক সমাবেশে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে পুলিশকে দিয়ে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে আজকে বেআইনিভাবে ক্ষমতায় দখল করে আমাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এখন কথা বলা যায় না, কথা বললেই অ্যারেস্ট।
তিনি বলেন, তারা আবার নতুন ধরনের নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে। তারা বলছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করবে। এই সংবিধান তো কেটে-ছিলে আপনারাই তৈরি করেছেন। মানুষ বলছে, আগে জানলে তোমার ভাঙ্গা নৌকায় উঠতাম না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকারকে আর থাকতে দেয়া যাবে না। তারা আবার আগের মতো নির্বাচন করতে চায়। আবার আগের মতো লুট করে নিয়ে যাবে, আমরা কি সেটা হতে দেব? আমরা এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবো আমাদের অস্তিত্বের জন্য। আমরা দেশে বানের জলে ভেসে আসিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করে আন্দোলন বন্ধ করতে পারবে না ক্ষমতাসীনরা। এ সরকারকে আর থাকতে দেয়া যায় না, আগের মতো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। বারবার মার খেয়েছি আর মার খেতে রাজি নই।
ক্ষমতাসীনদের ব্যাপক দুর্নীতির উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এরা ফুলে ফুলে সব কলা গাছ হয়ে গেছে। যার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না, সে এখন বিরাট গাড়ি চালায় এবং বড় বড় বাড়ি তৈরি করেছে সব আওয়ামী লীগের লোকেরা। দেশের মানুষের রক্ত চুষে নিয়ে, ট্যাক্স চুরি করে নিয়ে।
ফখরুল বলেন, এখন আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে সোচ্চার হয়ে সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা ১০ দফা দিয়েছি.. তোমরা অবিলম্বে পদত্যাগ করো, সংসদকে ভেঙে দাও এবং একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দাও। সেই সরকার নিরপেক্ষভাবে একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, সেই কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে জনগণ সেখানে ভোট দেবে। যার ভোট সে দেবে, যাকে খুশি তাকে দেবে। সেখানে যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে আসে আসুক, আপত্তি নেই। কিন্তু জনগণের ভোটে আসতে হবে।
আরও পড়ুন: বিএনপি নির্বাচন না এলে আইসিইউতে যাবে: কাদের
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমরা সংগ্রাম শুরু করেছি দেশকে রক্ষা করার জন্য, বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য। তাই আসুন আমরা বিশেষ করে তরুণ যুব সমাজকে আহবান জানাব, বাংলাদেশে যত পরিবর্তন হয়েছে, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৯০ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সবকিছু তরুণ-যুবকরা করেছে। তরুণদের বলব, এগিয়ে আসুন; পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে। গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে এই ভয়াবহ দানবীয় সরকার যারা আমাদের সমস্ত অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে তাদেরকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।
নবাবগঞ্জ শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে দুই কিলোমিটার পদযাত্রা করে বক্সবাজার মোড়ে গিয়ে এই পদযাত্রা শেষ হয়। এ সময় নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে শ্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা। পদযাত্রায় মহাসচিব, কেন্দ্রীয় নেতারাসহ যুব দল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মী অংশ নেন।
একাত্তর/আরএ
