রাজনৈতিক দলগুলোকেই ঠিক করতে হবে বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন কোন পথে যাবে। সেজন্য প্রয়োজন দলগুলোর দেশপ্রেম ও সদিচ্ছা। সেনাবাহিনী যদি পেশাদারিত্ব বজায় রাখে এবং বড় দুই দল সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অনড় থাকে তবে কোনো অপশক্তি মাথাচাড়া দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা।
শনিবার এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।
বৈঠকে নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি অপমানজনক মন্তব্য করে বিশিষ্টজনরা বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে নির্বাচনকে ঘিরে কোনো পরাশক্তি ভিসানীতি ঘোষণা করবে। এছাড়া একেক দেশের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর একেক নীতিরও সমালোচনা করেন বক্তারা।
বৈঠকের সঞ্চালক এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, প্রধনমন্ত্রী বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লিডার শিপের জায়গা তুলে ধরছেন। ভিসা কাকে দেবে না দেবে তাদের বিষয়। আমেরিকা ভিসা দেয় না এটি নিয়মিত বিষয়। কিন্তু ঘোষণা দিয়ে ভিসা না দেয়া অপমানজনক। নিশ্চয়ই বাংলাদেশ এর জবাব দেবে। যেমন ভারত বহু দিন পশ্চিমা দেশগুলোর নির্যাতন সহ্য করেছে, কিন্তু এখন তার জবাব দিচ্ছে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসছে বলে সরকারি দল হেরে গেছে মানতে রাজি না। সরকারি দল নির্বাচন দিলে বিরোধী দল আসবে না এটিও ঠিক না। দুটো পরপর নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানেনি। বিদেশিদের কথা বাদ, দেশেও সমালোচনা আছে। নির্বাচন কমিশন একটি প্রতিষ্ঠান, যারা ঢাকায় বসে সারাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নির্বাচন একটি কমিশনের দায়িত্ব নয়। সবাই মিলে সমালাতে হবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, সরকারকে এবং নির্বাচন যারা করছে তাদের সহযোগিতা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি দেওয়াকে অপমানজনক বলে মনে করি। বাইরে থেকে কেউ এসে নির্বাচন করে দেবে এটি অপমানজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কি ভুল মুক্ত, তাদের দেশেও সমস্যা আছে। এটি নিয়ে মামলা আছে। একেক দেশের জন্য একেক নীতি, এটি নিয়ে ভয় পাবার কোনো কারন নেই।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা। কিন্তু এটি সফল হয়নি। আমাদের কাঠামোগত দিক দিয়ে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ত্ব রয়েছে। ১৯৫৪ সালে কোনো নির্বাচন কমিশন ছিল না।
প্রশাসন এখন জনগণের নির্ভরতার জায়গা থেকে সরে গেছে। আমরা ব্যর্থ হয়েছি
ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের সভাপতি মুনিরা খান বলেন, ইউরোপিয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না। স্বচ্ছতা আনতে হবে। কোন পথে নির্বাচন জবাব দেবে নির্বাচন কমিশন। ইউরোপিয় ইউনিয়ন তারা কি স্বচ্ছ? নির্বাচন কমিশনের তথ্য এক রকম, আর পত্রিকাতে লিখেছে ভিন্ন কথা। টাকার অভাবে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না, এটি কীভাবে সম্ভব।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মশিউর রহমান বলেন, আমদের বড় টানিং পয়েন্ট ১৯৯০। এর আগে পুরো ভোট বাক্সে থাকতো। ভোট এবং ভাতের অধিকার চাইতো তারা। নির্বাচনে অংশগ্রহণ বড় না রাজনৈতিক প্রভাব বড়। বাংলাদেশ নির্বাচনের রাজনীতি যে দিকে যাচ্ছে মানুষ ভোট দিচ্ছে। আমরা ভুলে যাই জঙ্গিবাদ এবং সামরিক শাসনের চর্চা হয়েছে। এখন তার মাশুল দিচ্ছি। তবে রাজনীতি ইতিবাচক ধারায় যাচ্ছে।
ইমেরিটাস সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান বলেন, আমেরিকা চায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ নির্বাচন। তারা চাইতেই পারে। আমাদের এনগেজমেন্ট দিতে হবে। কোনো একটি দল ক্ষমতায় আসলো, তখন কি আমরা বলবো নির্বাচিত স্বৈরাচার। আমরাদের একটি রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার জায়গায় ফিরতে হবে।
তিনি বলেন, আমেরিকা কাকে ভিসা দেবে, না দেবে- এটা তাদের একান্ত নিজস্ব বিষয়। বিরোধী দল সবসময় ক্ষমতাসীন দলকে টেনে হিঁচড়ে নামাবে- এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে হলে এতটা সমালোচনা হতো না। ১৯৫৪ সালে কোনো নির্বাচন কমিশন ছিল না- তখন তো অসুবিধা হয়নি। ক্ষমতায় যাবার আগেই একটি রাজনৈতিক দল দুটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বর্জন করেছে, ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবেন।
ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসানীতিতে নাগরিক হিসাবে আমরা অপমানিত। কেন আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম, কারণ স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনীতি করবে না। কিন্তু তারা করছে। কীভাবে চিন্তা করলাম সেই বাংলাদেশ সঠিক পথে চলবে। তারা প্রতিদিন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলে। শুধু অধিকার না বাংলাদেশে একাধিক এনজিও আছে যা গণতন্ত্র প্রচার করে। যারা স্টেট ডিপাটমেন্ট থেকে পয়সা পায়। ইউরোপিয় ইউনিয়নে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আছে। আমেরিকাতেও আছে। কিন্তু বাংলাদেশে যখন আসে তখন গা জলা শুরু করে। একেক দেশের জন্য একেক নিয়ম। ভিসানীতি নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর দরকার আছে কি?
শেষে সঞ্চালক বলেন, রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে। জনগণকে বর্জনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে হবে। দুই দল অনড় অবস্থানে থাকলে অনেক অপশক্তি মাথা চাড়া দেবে। সমাধান করতে হবে যেখানেই হোক।
একাত্তর/এসি
মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞায় পড়া ব্যক্তির সংখ্যা বেশি নয়: শাহরিয়ার
নতুন ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
যারা নির্বাচনে বাধা দিতে চায় ভিসানীতিতে তাদের ক্ষতি হবে: ওবায়দুল কাদের