শেরপুর-৩ আসনে এবারও কি চাচা-ভাতিজার লড়াই

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:৪৫ পিএম

শেরপুর-৩ আসনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, গত ১৫ বছরের সংসদ সদস্য ২০০৮ সালে প্রথম জয়ী হয়েছিলেন নিজের ভাইয়ের ছেলে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে। তাঁর ভাই এর আগে এ আসন থেকে বিএনপির টিকেটে জয়ী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা কর্মীরা বলছেন, ১৫ বছরেও বর্তমান সংসদ সদস্য নেতা-কর্মীদের আস্থায় আসেননি। আর সাধারণ ভোটাররা বলেন এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন সাবেক আমলা প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী) আসনে এরপর আরও দুই নির্বাচনে তাঁকেই বেছে নেয় আওয়ামী লীগ। তিনিও নৌকাকে জয়ী করেছেন। তবে এবার পথটা কঠিন হতে পারে ফজলুল হকের।

কারণ, নেতৃত্ব ও মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগে চরম অন্তকলহ রয়েছে। এখানে সবাই এমপি হতে চায়, এবং জনশ্রুতি আছে মেম্বার চেয়ারম্যান হওয়ার মত ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নেই এমন নেতাও মনোনয়ন পেতে মরিয়া বলে জানান তৃণমূল পর্যায়ে নেতারা।

শেরপুর-৩ আসনে মনোনয়ন লড়াই জমজমাট

এখানে আওয়ামী লীগে দ্বিধা বিভক্তি থাকলেও অত্যন্ত গোছালো অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। দলটির নেতা সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল এই আসনে তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ফজলুল হকের আপন ভাতিজা । বরাবরই চাচা ভাতিজার লড়াই হয়ে আসছে এই আসনে, যা ভোটের মাঠেও সমান জনপ্রিয়। 

বর্তমান আ’লীগের সংসদ সদস্য ফজলুল হক চাঁনের বড় ভাই ডা. সেরাজুল হক বিএনপি থেকে এই আসনে নির্বাচিত হন ১৯৯১ সালে। ১৯৯৪ সালে সেরাজুল হকের মৃত্যু হলে তার ছেলে রুবেল উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘদিন পরে ২০০১ সালে আবার নির্বাচিত হন রুবেল। 

এদিকে ২০০৮ সালে এ আসনের রাজনীতিতে নৌকা মার্কার পক্ষ নিয়ে মাঠে নামেন সাবেক আমলা ফজলুল হক চাঁন। বড় ভাইয়ের ছেলে রুবেলকে হারিয়ে তিনি এমপি হন, এরপর টানা ১৫ বছর তিনিই আছেন। তবে, এলাকার সাধারণ ভোটাররা অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গে নেতাকর্মীদের দূরত্ব রয়েছে । 

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে এই আসনের সংসদ সদস্য হন সাবেক আমলা প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক

এরই মধ্যে দলের মধ্যে কমপক্ষে আট থেকে দশজন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এই আসনে নির্বাচনের আগ্রহ দেখিয়েছেন। যদিও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এসব বিরোধীপক্ষের অপপ্রচার। দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তার পক্ষেই কাজ করবেন। নৌকার পক্ষেই সবাই থাকবে। 

এই আসনের বিএনপি থেকে এবারও নির্বাচন করতে চান, সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি ছাড়াও বিএনপিতে নির্বাচনে আগ্রহী শক্ত দু'জন প্রার্থী আছেন। তারা মুখে বলছেন দলের একদফা আন্দোলন সবার আগে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নানা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেরে নিচ্ছেন প্রচার। নেতাকর্মীদের মত, ভালো ভোট হলে রুবেলের জয় নিশ্চিত। 


আর রাজনৈতিক মেরুকরণে তলে তলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জাসদ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী। শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার একটি পৌরসভা এবং ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে শেরপুর-৩ আসন গঠিত। এ আসনে আ’লীগ ও বিএনপির কাছাকাছি সংখ্যক ভোট রয়েছে। 

চারদিকে যখন উন্নয়নের জোয়ার, তখন গোটা শেরপুরের গারো পাহাড়ে রয়েছে শত শত বঞ্চনার অভিযোগ। সোমেশ্বরী নদী বিচ্ছিন্ন করেছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খারামোরা, রাঙাজান ও কোচপাড়া গ্রাম। এই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জোর দাবি থাকলেও এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। 


 

 

সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
বিতর্ক ও সমালোচনার জেরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেছেন, দল তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেনি, বরং তিনি নিজে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি...
ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে...
নানা নাটকীয়তা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে পৌঁছেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর