অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলে নিয়ে আওয়ামী লীগ দেশকে হীরক রাজার দেশে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে ভয়াবহ পরিণতির জন্য সরকারকে তৈরি হবার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মঙ্গলবার ঝিনাইদহ থেকে খুলনা পর্যন্ত রোডমার্চে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তারা। সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ থেকে মাগুড়া হয়ে যশোর ও খুলনা পর্যন্ত রোডমার্চ কর্মসুচি পালন করে বিএনপি। এতে যোগ দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
রোড মার্চ শুরুর আগে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে যোগ দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। সমাবেশে সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
রোডমার্চ উদ্বোধনকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা দেশ স্বাধীন করেছি গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। কোন রাজা-রানীর রাজত্ব করার জন্য নয়। দেশ আজ হীরক রাজার দেশে পরিণত হয়েছে৷ এভাবে চলতে দেয়া যায় না। এখন দড়ি ধরে টান মারা সময় এসেছে’ বলে মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, আমরা এক দফার দাবিতে রাস্তায় নেমেছি। এই ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে শত শত নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ৪০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিএনপি মাঠ ছাড়েনি। কারণ একটাই, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া বিএনপি ঘরে ফিরবে না।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই চন্দ্র রায় বলেন, হিংসার বশবর্তী হয়ে খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রাখা হয়েছে। এক দফার আন্দোলনে আজ সারা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি, সকল গণতান্ত্রিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে এই সরকারকে বাধ্য করা হবে। এক দফার আন্দোলন চূড়ান্ত করেই দেশের মানুষ ঘরে ফিরবে, ইনশাল্লাহ।
এরপর শুরু হওয়া রোড মার্চটি ঝিনাইদহ সড়ক হয়ে,মাগুড়া পৌছায়। সেখানে দুটি পথ সভায় বেগম খালেদা জিয়াকে দ্রুত মুক্তি না দিলে সরকারের ভয়াবহ পরিনতির জন্য তৈরি হবার হুশিয়ারী দেন বিএনপি নেতারা।
সরকার অর্থনীতি শেষ করে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আজকে আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাণ্ডার শূন্য। কয়েকমাস পর সরকারী কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারবে না সরকার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত। সেই আঘাত যেন ভালোভাবে বুঝতে পারে নরপিচাশরা।
এরপর রোডমার্চের গাড়ি বহর রওনা হয় যশোরের উদ্দেশ্যে। যশোর শহরে তিনটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা ।
এরপর রোডমার্চের গন্তব্য ছিলো খুলনা। খুলনার সীমনায় প্রবেশ পথে সেখানে আরও একটি পথসভায় যোগ দেন নেতাকর্মীরা।
ঝিনাইদাহ থেকে খুলনা পর্যন্ত ১৬০ কিলোমিটারের এই রোড মার্চে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী। কখনও গাড়িতে কখনও পায়ে হেটে রোডমার্চে অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
