উন্নয়ন নিয়ে জোর বিতর্ক রয়েছে মাগুরা-১ আসনে। সরকারি দলের নেতারা জানান, রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। আর ভোটাররা জানান, মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন হয়নি। এছাড়াও, সরকারি দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, তাঁর আধিপত্যের কারণে অনেক পুরনো নেতা-কর্মী এখন দলের বাইরে। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়েও দলের মধ্যে কোন্দল রয়েছে। মাঠে সক্রিয় রয়েছে জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীও।
মাগুরা সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাগুরা-১ আসনে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান সাবেক এমপি মরহুম আছাদুজ্জামানের ছেলে ও সাবেক ছাত্র নেতা সাইফুজ্জামান শিখর। নির্বাচনে জয়ের পর জেলার রাজনীতিতে তিনি একক প্রাধান্য বিস্তার করেন। বিষয়টি পছন্দ করেননি দলে একটি অংশ।
আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটির এবারও সাইফুজ্জামান শিখর একক দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এরই মধ্যে কিছু নেতা-কর্মী নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তবে, জেলা আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতারা সক্রিয় ভাবেই মাঠে আছেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে, যাঁরা দলের হাইকমান্ডে লবিং এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত, বর্তমান সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরই হচ্ছেন এই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী।
সাইফুজ্জামান শিখর সংসদ সদস্য হওয়ার পর মাগুরায় একটি মেডিক্যাল কলেজ, নির্মাণাধীন আইটি পার্ক, অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম ও তার সৌন্দর্যবর্ধন, আধুনিক জিমনেসিয়াম, নবগঙ্গা ব্রিজ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পৌর এলাকার ফোর লেন সড়কসহ জেলার কমপক্ষে অর্ধশত উন্নয়ন কাজ করেছেন।
সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার আগে থেকেই আমি মাগুরার জন্য অনেক কিছু করে আসছি। সংসদ সদস্য হয়ে এই চার বছরে মাগুরা জেলার নানা দিক দিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। তাই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে এই আসন থেকে আমি বিপুল ভোটে আবারও জয়ী হব।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের সুযোগ নিতে চান বিএনপি নেতারা। এরই মধ্যে তারা দলীয় সিদ্ধান্ত পেলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও নব্বই-পরবর্তী সংসদীয় ব্যবস্থা আবার চালু হবার পর এই আসনে বিএনপি শুধু একবারই জিতেছে। সেটা ১৯৯১ সালে।
বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল আকতার খান কাফুর। তিনি ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে শিখরের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
এছাড়া বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মদ, বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব কিশোরও আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। তবে সবাই অপেক্ষা করছেন নির্বাচন প্রশ্নে কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।
জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক রতন কুমার মিত্র, সাবেক জাপা নেতা হাসান সিরাজ সুজার স্ত্রী মাগুরা জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সেলিনা হাসান এবং জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুস সারেফিন সাইফ। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিয়মিত এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সভা-সমাবেশ করছেন।
ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ থেকে মাগুরা-১ আসনে মওলানা নাজিরুল ইসলাম প্রার্থী হতে পারেন। তবে মাগুরা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীদের তৎপরতা দেখা যায়নি।
মাগুরা সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ, একটি পৌরসভা এবং পুরো শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে মাগুরা-১ আসন গঠিত। নির্বাচনী এ আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬১৫ জন । এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০৭ জন এবং মহিলা ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯০৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে একজন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস