পাবনা সদর উপজেলা নিয়ে পাবনার-৫ আসন। আলোচিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে এখানে জয়ী হয় জামায়াতে ইসলামী। বাকি সব নির্বাচনে জয়ের ইতিহাস আওয়ামী লীগের। গত ১৫ বছর এই আসনে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন যেমন হয়েছে তেমনি রয়েছে উন্নয়ন বঞ্চনাও।
তাই এখানে বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরকারি দলের একাধিক প্রার্থী আছেন। ১৪ দলীয় জোটের মনোনয়ন চান বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টিরও। আর, বিএনপি নেতারা জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মানুষ তাদের ভোট দেয়ার জন্যে মুখিয়ে আছেন। তবে দলটির মধ্যেও প্রার্থী নিয়ে রয়েছে কোন্দল।
কৃষি, তাঁত শিল্প আর ছোটবড় শিল্পের সাথে জড়িত পাবনা সদরের মানুষ। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত পাবনা-৫ সদর আসনে আওয়ামী লীগ তিন বার, জামায়াত দুই বার, আর বিএনপি একবার করে জিতেছে।
পাবনা পৌরসভা ও দশ ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন। আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৪। এ আসনটিতে এমপি রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স। তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী মামলায় ফাঁসি হওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহানকে বিপুল ভোটে হারিয়ে নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দেন।
দু’বার এমপি নির্বাচিত হয়ে দলের কোন্দল নিরসন করে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। শুধু তাই নয় তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি গ্রামপর্যায়ে ব্যাপক উন্নয়ন করায় বেশ সমাদৃত হয়েছেন। তিনি অনেক ছেলে মেয়েদের বিনা টাকায় চাকরি দিয়ে সুধীমহলেও দৃষ্টি কেড়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাবনায় ৫০০ শয্যা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সদরে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়নে পাবনাবাসী যেমন খুশী। ঠিক তেমনি শহরে যানজট নিরসনে নেই কোন পদক্ষেপ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার শোচনীয় অবস্থা আর শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে বলা ইছামতি নদীর দূরাবস্থার কথা বলেন সমস্বরে।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলেন, তাদের রয়েছে ঐতিহ্যের রাজনীতি আর ঝানু রাজনীতিবিদ। উন্নয়ন আর সাধারণ মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগের কারনে এ আসনে আওয়ামী লীগের সাথে অন্য দলের তুলনাই চলে না। ফলে এবারও পাবনা-৫ আসন আওয়ামী লীগের দখলেই থাকবে।
আর বর্তমান সংসদ সদস্য বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সাথে সাথে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার হারও বেড়ে গেছে। এটি মন্দ নয়। দলে কোন বিরোধ নেই। নতুন মানুষ, নতুন প্রার্থী, এটা স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলেন, ১৫ বছরে পাবনার কোন পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি।
আর. জেলা বিএনপির আহবায়ক খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদসহ নেতাকর্মীরা জানালেন, তারা এখন নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন না। জনগণের ভোট দেবার নিশ্চয়তা ছাড়া তারা ভোটে অংশগ্রহন করবেন না। আর যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা আছে।
তবে জেলা ওয়াকার্স পার্টির আহবায়ক কমরেড জাকির হোসেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ সমাজের নানা দূর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, জনগনকে সাথে নিয়ে তারা নির্বাচনে যেতে চান। দুই দলীয় রাজনীতির ধারা পরিবর্তনের জন্য তারা লড়ে যেতে চান। জামায়াতকে মাথাচাড়া দিতে দেয়া যাবে না।
এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি জামায়াতের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। জেলা বিএনপি এককপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। অন্যদিকে জামায়াত পাবনা ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইনকে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে।
বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিভিন্ন মামলায় জেলে থাকায় যদি প্রার্থী হতে কোন বাধা সৃষ্টি হয় তাহলে জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইনই ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ আসনে অন্য কোন দলের তেমন প্রভাব না থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গেই বিএনপি জোটের ভোট লড়াই হবে বলে সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন।
৪৩৩.৯১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে পাবনা সদর আসেন একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮শত ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭শত ৮১ জন। নারী ভোটার ২ লক্ষ ৪০ হাজার ১ শত ১৮ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: বড় দুই দলের ঘরের ভেতরে আগুন