জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন কুষ্টিয়া-৩। সদর ও ইবি থানা এবং পৌর এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। বিএনপির ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এ আসনটি ২০০৮ সালে দখলে আওয়ামী লীগ।
সেবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন খন্দকার রশীদুজ্জামান দুদু। তাঁর মৃত্যুর পর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পান মাহবুব উল আলম হানিফ। আওয়ামী লীগের অন্যতম নীতিনির্ধারক এই নেতা সে সময় কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের বাসিন্দা ছিলেন।
জোটগত নির্বাচনের কারণে ওই আসন তাঁকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ছেড়ে দিতে হয়। ফলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হানিফ প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করেন।
আসছে নির্বাচনেও এ আসনে হানিফের মনোনয়ন একপ্রকার নিশ্চিত। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নিজের আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন হানিফ। এই উন্নয়নযজ্ঞের কারণে দলের তৃণমূলে কিছু বিভেদ থাকলেও হানিফকেন্দ্রিক দলীয় নেতা-কর্মীরা সবাই এক কাতারে।
হানিফ বলেন, নির্বাচনে আসার আগে আমি কুষ্টিয়াবাসীকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সংসদ সদস্য হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে তার সবটাই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে, নৌকার পক্ষে ভোট দেবেন।
হানিফ ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. এ এফ এম আমিনুল হক রতন, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইউকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহাতাবুল হক জয়ের নাম শোনা যাচ্ছে।
কুষ্টিয়া সদরের এলাকার ভোটারদের অন্যতম অভিযোগ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে ভোটারদের। এই আসনেই রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ভোটাররা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন সমস্যা এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপনে প্রভাব ফেলে।
এক সময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ার সব কটি আসনই দলটির দখলে ছিলো। বিএনপির সেই দুর্গ এখন আর নেই। আওয়ামী লীগ ফাটল ধরিয়েছে। পরপর তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকেরা সব আসনে বিজয়ী হয়েছে।
সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে থাকা বিএনপির নেতারাও প্রস্তুতি এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম উল হাসান অপু দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।
অন্যদিকে জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নাফিজ আহমেদ খান টিটু। আবার জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিনও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তিনি, ১৪ দলের শরিক দল জাসদ। দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।
