টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নৌকার কর্মী সমর্থকরা দুই আওয়ামী লীগ নেতার অফিস ও বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুস ইসলাম তালুকদার।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে দ্বিতীয়বারের মতো নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ছোট মনির ।
সোমবার কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় তিনি শোডাউন করেন।
অপরদিকে দ্বিতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার। দলীয় মনোনয়নের আশায় দুই মাস আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।
গত বুধবার এক ফেসবুকের স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, ছোট মনির মনোনয়ন পাওয়ার খবরে নৌকার কর্মী সমর্থকরা সোমবার রাতে কোনো কোনে স্থানে তাণ্ডব চালায়। তাদের টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদারের বড়শিলা বাজার অফিসে নৌকার কর্মী সমর্থকরা মিছিল নিয়ে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একই রাতে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহিন মাস্টারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
ইউনুস ইসলাম তালুকদার এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার দাবি করেন।

তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ‘স্পেস’ দিয়েছেন। এ জন্য তিনি এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রোববার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেদিন বিকেলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নাম ঘোষণা করার আগেই মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রায় সাড়ে তিন হাজার নেতার সঙ্গে মত বিনিময়ে বিশেষ বার্তা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
মত বিনিময় থেকে বেরিয়ে এসে নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে বলেছেন- ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো কোনো আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাস দেখতে চান না তিনি। সব আসনেই যেন ‘ডামি (বিকল্প)’ প্রার্থী থাকে।
এ আসন থেকে নৌকায় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে নেমেছেন গোপালপুর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক পেশাজীবী গ্রুপের সচিব এমরান হক চৌধুরী। এ ছাড়াও জাকের পার্টির এনামুল হক মঞ্জু এবং জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবীর তালুকদার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।
