জাতীয় পার্টির সঙ্গে কৌশলগত জোটের সম্ভাবনা দেখছেন হাছান মাহমুদ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২০ পিএম

আসন্ন নির্বাচনে সংসদে প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কৌশলগত জোট হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে মহাজোট গঠন করে ২০০৮ সালে আমরা নির্বাচন করেছিলাম। গতবার তারা আমাদের স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স ছিলো এবং সেটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।  

আওয়ামী লীগের জোট শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আলোচনার মধ্যে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এসব কথা বলেন হাছান মাহমুদ।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টিসহ আরো কয়েকটি দল নিয়ে গঠন করা হয় মহাজোট। ওই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে মহাজোট।

এরপর ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট না করেই নির্বাচন করে জাতীয় পার্টি। ওই ভোটে জোট না থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আছে, এমন ৩৪টি আসনে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। এসব আসনেই জয় পায় দলটি। ভোটের পর সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি।  

আবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে না থাকলেও নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি করে। গত সংসদ নির্বাচনের তাদেরকে দেওয়া হয় ২৬টি আসন, এর মধ্যে তারা জয় পায় ২৩টিতে। এই সংসদেও বিরোধীদলের আসনে রয়েছে জাতীয় পার্টি।

হাছান মাহমুদ বলেন, জাতীয় পার্টি প্রায় ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তারা যেভাবে নির্বাচন যুদ্ধে নেমেছে সে জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।

এদিকে আওয়ামী লীগের দুই দশকের পুরনো আদর্শিক জোট ১৪ দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে। গত নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের ১৩টি আসনে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

এবার শরিকরা বেশি আসন দাবি করলেও কয়টি আসনে তাদের ছাড় দেয়া তা নিয়ে চলছে বৈঠকের পর বৈঠক।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ১৪ দলীয় জোটগতভাবেই আমরা নির্বাচন করবো। আমাদের এককভাবে নির্বাচন করার শক্তি, ক্ষমতা, সমর্থন সবই আছে।

‘কিন্তু শরিকদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বিধায় আমরা জোটগতভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’

আসন ভাগাভাগির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই একটি সমঝোতায় উপনীত হবো। আমরা ১৪ দল জোটগতভাবেই নির্বাচন করবো।’

বিএনপি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি মানবাধিকারের কথা বলতে পারে না কারণ তারা নিজেরাই চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছেন, রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে দলকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

‘২০১৩, ১৪, ১৫ সালে তারা পেট্রোলবোমা মেরে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে। তখন তারা অগ্নিসন্ত্রাস করেছিলো, এখনো করছে।’  

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করা। সেটি জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে হয়েছিলো। এরপর বাংলাদেশে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে ১৯৭৭ সালে নির্বিচারে সেনা ও বিমান বাহিনীর অফিসারদেরকে বিনাবিচারে হত্যা করা।

হাছান মাহমুদ বলেন, শুধু নামের মিল থাকায় মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময় সে চিৎকার করে বলছে- আমি সেই ব্যক্তি নই, আমি সেই ব্যক্তি নই, কিন্তু কে শোনে কার কথা। এমনও ঘটেছে, ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরে রায় হয়েছে।

‘জিয়াউর রহমানের এডিসি ছিলেন যিনি এখন কানাডায় থাকেন, তিনি নিজে বলেছেন, এই মৃত্যুদণ্ডের ফাইলগুলো জিয়াউর রহমান সকালবেলা নাস্তার সময় স্বাক্ষর করতেন। বিদেশ যাত্রাকালে প্লেনে ওঠার আগে সিঁড়িতেও মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেছেন। এভাবে মানবাধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।’

বিএনপি সহিংস কর্মসূচিতে পোড়ানো হচ্ছে যানবাহন।

বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপির কর্মসূচি বলতে চোরাগোপ্তা হামলা করে গাড়ি-ঘোড়া পোড়ানো আর মানুষের ওপর হামলা করা। তারা তাদের সন্ত্রাসীদের নামিয়েছে, নেশাখোরদের টাকা দিয়ে এগুলো করাচ্ছে।

‘এগুলো দুষ্কৃতিকারীদের কাজ। বিএনপি-জামায়াত এ দুটি সংগঠন এখন দুষ্কৃতকারী সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা দুষ্কৃতিকারীদের দমন করতে বদ্ধপরিকর।’  

আরবি 
সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনীতি জোর করে বন্ধ করতে চায় না, বরং আইনের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি...
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের দমাতে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিলো বলে প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এছাড়া...
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাস্তায় নামলে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে আবারও প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা হচ্ছে। জনগণকে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। 
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করেন তাহলে তারা সেভাবে ব্যবস্থা নিবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান ও কাতার। 
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনটিটি)- এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয়...
রোববার নিউ জার্সির রাতে লাল জার্সিতে দ্বিতীয় নক্ষত্র খোদাই করে বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস লিখেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ঠিক কী ঘটেছিল...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর