আগুন সন্ত্রাসের মতো অপরাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
আর নাশকতার মাধ্যমে যারা ট্রেন দুর্ঘটনায় জড়িত তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে বরেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় এসব কথা বলেন হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানো, মানুষ পোড়ানো কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারেনা। এগুলো নিষিদ্ধ সংগঠনের মত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
‘তাদের এই অপরাজনীতি চিরদিনের জন্য বন্ধ হওয়া উচিত। তাদের এই অপরাজনীতি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও, নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টায় গুপ্ত স্থান থেকে তথাকথিত অবরোধের ডাক দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ও সমমনা দল।’
তবে এসব কর্মসূচিতে সাধারণ জনগণের কোনো সাড়া নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও অবরোধ পালিত হচ্ছে না।
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোটে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও নির্বাচনের তফসিল বর্জন করে সহিংস কর্মসূচি চালাচ্ছে বিএনপি ও তাদের সহযোগীরা।
সরকারের পতনের এক দফা দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে বিএনপি। এসব কর্মসূচিতে জন সম্পৃক্ততা না থাকলেও অসংখ্য যানবাহন পোড়ানো হচ্ছে।
গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১৩ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত, ৪৬ দিনে ২৭৪টি যানবাহনে আগুন ও ১৫টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে লাইন কেটে ফেলায় বুধবার ভোরে গাজীপুরের ভাওয়াল রেলস্টেশনের কাছে ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে একজন নিহত ও আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।
এই দুর্ঘটনার পেছনে নাশকতা রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রতিহত করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গাজীপুরে ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলার ঘটনা তারই প্রমাণ।
‘ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্ত হবে। আর নাশকতা কারীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।’
এদিকে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং তারা এবারও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে প্রত্যাশা করেন হাছান মাহমুদ।
ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে ‘নাশকতা’, দুই তদন্ত কমিটি গঠন