আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই নির্দেশ না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল।
উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী-এমপিরা তাদের আত্মীয় স্বজনদের পক্ষে মাঠে নামার পর বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের এই চিঠি দেওয়া হলো।
বৃহস্পতিবার দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার এ নির্দেশনা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের জানিয়ে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সে অনুযায়ী, নিজ নিজ বিভাগের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিষয়টি জানাতে শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
দেশে এখন ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। এবার চার ধাপে নির্বাচন উপযোগী ৪৮৫টিতে ভোট হবে, পরে মেয়াদোত্তীর্ণ হলে বাকিগুলোয় ভোটের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন।
প্রথমধাপের ১৫০ উপজেলায় ভোট সামনে রেখে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, বুধবার বাছাইও শেষ হয়েছে। ৮ মে এসব উপজেলায় ভোট হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ১৬১ উপজেলায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত, তৃতীয় ধাপের ১১২ উপজেলায় মনোনয়ন জমা চলবে ২ মে পর্যন্ত।
এর মধ্যে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক প্রার্থীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ওই এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং এক প্রতিমন্ত্রীর শ্যালক।
নোয়াখালীর আরেক সংসদ সদস্য উপজেলা নির্বাচনে নিজের ছেলের পক্ষে আগাম প্রচারে নেমে হুঁশিয়ারি দেন, তার ছেলেকে ভোট না দিলে এলাকার কোনো উন্নয়ন হবে না।
আরো কয়েকটি জায়গায় স্থানীয় প্রার্থীকে জেতাতে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এসেছে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, এরইমধ্যে দলের নির্দেশনা এমপি-মন্ত্রীদের জানানো শুরু হয়েছে।’
দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদেরকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা নিজ নিজ বিভাগে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
দলের অন্তর্কোন্দল ঠেকাতে এবার আগে ভাগেই দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। সংঘাত এড়াতে দফায় দফায় কঠোর বার্তা দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু তারপরও আত্মীয় স্বজনদের পক্ষে মাঠে নেমে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ ছড়াতে শুরু করেন অনেকে। সে কারণেই মন্ত্রী-এমপিদের সন্তান ও আত্মীয়দের উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠোর বার্তা দিলো দলের হাইকমান্ড।
দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম থেকে আসা এই নির্দেশনা মানা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রভাবমুক্ত করতে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত কেউ উপেক্ষা করলে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দুই শাস্তিই পেতে হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
আওয়ামী লীগর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমাদের নেত্রী পার্টির প্রতি কঠিন বার্তা দিয়েছেন। কোনো অবস্থাতেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে যাওয়া যাবে না। কেউ গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, দলের কেন্দ্রীয় অধিকাংশ নেতাদের অভিমত ছিলো, দলীয় প্রতীক বরাদ্দের কারণে দলের তৃণমূলে গ্রুপিং বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন দলের হাই কমান্ড।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনা পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদকরা স্ব স্ব বিভাগীয় এমপি মন্ত্রীদের ফোন করে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বলেছেন এবং কাউকে সমর্থন দিতে নিষেধ করেছেন বলেও জানান এই নেতা।
এ নির্বাচনে যারা (এমপি-মন্ত্রী) নিকট আত্মীয়দের দিয়ে নির্বাচন করাচ্ছে, তাদের তালিকা করা হচ্ছে বলেও জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা।
উপজেলা নির্বাচনে কোন্দল ঠেকাতে কঠোর আওয়ামী লীগ