আঞ্চলিক জোট হিসেবে সার্কের ঐক্য যারা চায় না, তাদের অন্য যেকোনো ঐক্যকে আমরা সন্দেহের চোখে দেখবো—বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিকতার জন্য সার্ক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য জাতিসংঘ—এই পথ ধরেই তার নিজস্ব মর্যাদা ধরে রাখতে চায়।
শনিবার (১৩ জুন) ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশকে একসঙ্গে করতে চাইলে, আগে সার্কের ২২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সার্কের ঐক্য যারা চায় না, তাদের অন্য যেকোনো ঐক্য আমরা সন্দেহের চোখে দেখবো।
সমাবেশে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ—এই স্লোগানকে ধারণ করেই আমরা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র মেরামতের মধ্যদিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণ করবো। দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী মেরুকরণ ভেঙে গত পাঁচ আগস্ট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ আগস্টকে আমরা বাংলাদেশের সর্বশেষ রক্তাক্ত দিবস হিসেবে পালন করতে চাই।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে কৃত্রিম বয়ান তৈরি করে দেশকে বিভক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ফ্যাসিস্ট ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের পথ ধরে আজকের বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন করছি। অতীতের সব কৃত্রিম বয়ানকে রুখে দিয়ে সঠিক বয়ান উন্মোচিত করতে চাই।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিলো সবচেয়ে বিতর্কমুক্ত। জনগণের পরিচ্ছন্ন ম্যানডেট নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তারেক রহমানের প্রতিটি স্লোগান ও দিকনির্দেশনায় আমরা সাহস ও উদ্দীপনা পাই। তার নেতৃত্বেই আমরা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি।
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও পরিচয় নিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, পরিষ্কার থাকা দরকার, এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের কোনো বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব বা বাঙালিত্ব ধার করার জন্য সীমান্তের ওপারে যেতে হয় না। দেশের মানুষই এই দেশের মালিক।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতি গঠনমূলক আলোচনার আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে জটিল সমস্যা সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
