ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের আন্ডারডগরা। শুধু আপসেট নয়, বরং দাপট দেখিয়েই মাটিতে নামিয়ে আনছে ফেভারিট দলকে।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামনে নিজেদের মাটিতেই যেমন ধরাশায়ী হলো এই ফরম্যাটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড।
তারপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে আয়ারল্যান্ড। আর, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
দুর্বলদের এই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়ে তাই বেড়েছে ক্রিকেট বিশ্বের সৌন্দর্য। খেলাটির প্রতি নতুন করে আগ্রহ বাড়ছে ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের।

দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারের গল্প, ইতিহাসের প্রতিটা অধ্যায়ের প্রতিটা পাতায় লেখা। প্রতিটা ক্ষেত্রে সেই গল্পের গতিপথ একই, কেবল চরিত্রগুলো আলাদা।
কিন্তু যতবারই দুর্বলরা চিনেছে নিজেদের, ঘুরে দাড়িয়েছে সদর্পে, ততোবারই এসেছে বিপ্লব, নতুন সূর্য দেখেছে পৃথিবী।
খেলাধুলায় যদিও সেই নির্যাতনের চোরাস্রোত নেই,তবে আছে সবলের আধিপত্য। সেটাকে জয় করে ছোট দল যখন ঘুরে দাঁড়ায়, তখন জমে যায় গ্যালারি। লড়াই হয়ে ওঠে আরো উপভোগ্য।
ক্রিকেটের মাঠে ২০২২ সালের শুরু থেকেই চলছে সেই দুর্বলদের ঘুরে দাঁড়ানোর মৌসুম। শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ।

যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো কোন ফরম্যাটেই কোন অ্যাওয়ে ম্যাচ জিততে পারেনি তামিম-মুমিনুল-রিয়াদরা, সেই তাদের সাথেই পাক্কা পাঁচ দিন দাপট দেখিয়ে টেস্ট ম্যাচটা জিতেই নেয় টিম টাইগার্স।
অথচ মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে এমনটা যে হবে সেটা কোন ঘোর বাংলাদেশ সমর্থও ভাবতে পারেনি। টেস্ট ক্রিকেটে এটাই সবচেয়ে বড় আপসেট কিনা সেটা নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় এখন পর্যন্ত চলছে তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ জয় তো আর সাধারণ কোনো অঘটন নয়, পাঁচ দিন পর্যন্ত নিজেদের সামর্থের প্রমাণ দিয়ে যেতে হয়।
সেই প্রমাণ দারুণভাবে দিয়েছে আয়ারল্যান্ডও। ক্যারিবিয়ানদের মাঠে গিয়ে এবার প্রথম ওয়ানডেটা ওরা হেরেছিল ২৪ রানে। তবে কামব্যাক করে দারুণভাবে।
টানা দুই ম্যাচ জিতে আইরিশরা নিজেদের দখলে নেয় সিরিজটাও। এর আগে কেবল একবারই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পেরেছে আইরিশরা, ২০১৫ বিশ্বকাপে।

সব মিলিয়ে ক্রিকেটে নতুন বছরের শুরুটা এসেছে আন্ডারডগদের সাফলতা দিয়ে। বাংলাদেশের দেখানো পথেই হেটেছে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মতো আন্ডারডগরা।
একাত্তর/এসএ
