ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত থিয়েটার দু’সাতলেতে, সোমবার রাতে ঘোষণা করা হয় ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অর জয়ীর নাম। সেরা খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত স্বীকৃতির এ পুরস্কার উঠেছে স্পেন ও ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রিগো হার্নান্দেজের হাতে। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। এতে জন্ম হয়েছে বিতর্কের। অনেকের মতে এই পুরস্কার এবার রিয়ালের উইঙ্গার ভিনিসিয়ুসের প্রাপ্য ছিলো। তিনি ফুটবল রাজনীতির স্বীকার বলে অভিযোগও উঠেছে।
ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে থাকে। বিশ্বজুড়ে এই পুরস্কারের স্বীকৃতি থাকলেও অনেকবারই তাদের সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অপেক্ষাকৃত সেরা খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলে অন্য কেউ জিতে নিয়েছে ব্যালন ডি'অর। ১৯৫৬ সালে শুরু হওয়ার পর ১৯৯৫ সালের আগ পর্যন্ত কোনো অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড়কে এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনাও করা হতো না। যে কারণে পেলে-গ্যারিঞ্চা-ম্যারাডোনার মতো ইতিহাসের সেরাদের অনেকেই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিতই হননি।

এবারের ব্যালন ডি’অর নিয়েও এখন আলোচনা আর চর্চা তুঙ্গে। অভিযোগ উঠেচে ইউরোপের নোংরা ফুটবল রাজনীতি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এবারের পুরস্কার ঘোষণার আগেই প্রচার হয়ে যায় ব্রাজিলের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কপালে জুটছে না ব্যালন ডি’অর। অথচ তিনিই ছিলেন সবদিক থেকে যোগ্য দাবিদার। বাজিকরদের চোখে ফেবারিট হলেও ভিনিসিয়ুস পুরস্কারটি পাচ্ছেন না, এমনটা নিশ্চিত হয়ে প্যারিসে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান বয়কট করে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই সঙ্গে আয়োজকদের এক হাত নিয়েছে ক্লাবটি।
রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরস্কার দেয়ার যে মানদণ্ড, তার ওপর ভিত্তি করে বিজয়ী হিসেবে যদি ভিনিসিয়ুসকে বেছে না নেওয়া হয়, তাহলে একই মানদণ্ড বিচারে কারবাহলকে বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। যেহেতু এমন কিছু হয়নি, তাই এটা পরিষ্কার যে ব্যালন ডি’অর-উয়েফা রিয়াল মাদ্রিদকে সম্মান করে না। আর যেখানে সম্মান নেই, রিয়াল মাদ্রিদ সেখানে যায় না। উল্লেখ্য, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০ দেশের সাংবাদিকেরা ভোটের মাধ্যমে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী বেছে নেন।

ভিনিসিয়ুস ব্যালন ডি’অর জেতেননি, এটা মেনে নিতে পারছে না রিয়ালের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়েরা। রিয়ালে ভিনিসিয়ুসের সাবেক সতীর্থ করিম বেনজেমা-টনি ক্রুসরা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। সমালোচনার ঝড় তুলেছেন রিয়ালে ভিনিসিয়ুসের বর্তমান সতীর্থরাও। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ কী রায় দিল বা না দিল, এতে যেন কিছুই যায় আসে না রিয়ালের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের।
তাদের কাছে এই সময়ের সেরা ফুটবলার ভিনিসিয়ুসই। এবারের ব্যালন ডি’অরও রদ্রির নয়, তাঁরই প্রাপ্য ছিল বলে মনে করেন তারা। গত মৌসুম শেষে ফুটবলকে বিদায় বলা- জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুস ইনস্টাগ্রামে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘দ্য বেস্ট’। যার মানে ভিনিকেই সেরা মানেন ক্রুস। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল ইত্তিহাদে খেলা বেনজেমা তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভিনির সঙ্গে একটা ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘ট্রপ ফোর্ট’। যার মানে শক্ত থাকো।

রিয়ালে ভিনিসিয়ুসের সতীর্থ এডোয়ার্দো কামাভিঙ্গা রদ্রির ব্যালন ডি’অর জয়কে দেখছেন ফুটবল রাজনীতি হিসেবে। এক্সে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে একটি ছবি দিয়ে তিনি লিখেন, ভাই আমার, তুমি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এবং কোনো পুরস্কারই অন্য কিছু বলতে পারে না। ভাই, তোমাকে ভালোবাসি। এই লেখার ওপরে কামাভিঙ্গা ‘ফুটবল রাজনীতি’ লিখে তার পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়েছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন অন্যান্য তার সতীর্থরাও।
