ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের টিকিট কনফার্ম, এবার মহাযুদ্ধের পালা! লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের এক রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে পা রাখল স্প্যানিশ আর্মাডারা। আগামী মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেভারিট ফ্রান্সের, যারা আগের দিনই মরক্কোকে উড়িয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।

পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই চললেও, শেষ মুহূর্তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বেলজিয়ান গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সের এক মারাত্মক ও লজ্জাজনক ভুল স্পেনের সেমিফাইনালের পথ সুগম করে দেয়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার ইনজুরির কারণে মাঠে নামা ল্যামেন্সের সেই শিশুতোষ ভুলই শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তি আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মাঠ কাঁপিয়ে তোলে। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙে স্পেন। দানি ওলমোর এক দুর্দান্ত শট বেলজিয়ান বাজপাখি থিবো কোর্তোয়া চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। রিবাউন্ড থেকে উড়ে আসা বলে চমৎকার ফিনিশিংয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজ।

তবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি বেলজিয়াম। বিরতির ঠিক আগে, ৪১তম মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে টিমোথি কাস্তানের এক নিখুঁত ক্রসে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেডে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন চার্লস ডি কেটেলিয়ারে। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ, গ্যালারিতে তখন ছড়ায় চরম উত্তেজনা।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে বেলজিয়াম শিবিরে নেমে আসে অন্ধকার। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা থিবো কোর্তোয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে পোস্টের নিচে দাঁড়ান তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। আর এই পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দেয়।
খেলার ৮৬তম মিনিটে স্প্যানিশ ডাগআউট থেকে সুপার-সাব হিসেবে মাঠে নামানো হয় মিকেল মেরিনোকে। আর মাঠে নামার ঠিক দুই মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ৮৮তম মিনিটে মেরিনো বনে যান স্পেনের জাতীয় নায়ক! স্প্যানিশ রক্ষণভাগের তরুণ তুর্কি পাউ কুবার্সির একটি নিচু জোরালো শট বেলজিয়ান গোলরক্ষক ল্যামেন্সের গ্লাভস ফসকে বেরিয়ে যায়। ওত পেতে থাকা মিকেল মেরিনো বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে আলগা বলটি জালের ভেতর ঠেলে দেন।

ল্যামেন্সের এই ক্ষমার অযোগ্য গোলকিপিং ভুলের চড়া মূল্য চকাতে হলো পুরো বেলজিয়াম দলকে। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ২-১ গোলের এক নাটকীয় জয় উদযাপনে মাতে স্পেন। এবার আগামী মঙ্গলবার ডালাসের মাঠে ফরাসি গতি বনাম স্প্যানিশ পাসিং ফুটবলের সেই বহুল প্রতীক্ষিত 'ব্লকবাস্টার' সেমিফাইনাল দেখার জন্য চড়ছে বিশ্বফুটবলের পারদ!
