টানা ভালো খেলছেন মোস্তাফিজুর রহমান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেনো ফিরেছেন নয়া রূপে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ছয় উইকেট পাওয়ার পর, শনিবার লঙ্কানদের বিপক্ষে তিনটা। ডালাসে দুর্দান্ত ভ্যারিয়েশন দেখিয়ে সবার বাহবা কুড়াচ্ছেন বাংলার কাটার মাস্টার।
মোস্তাফিজের মাথার চাল, নিশাঙ্কা বেহাল; ইদানীং হাতের কাজের সঙ্গে মাথার খেলাটাও কি দারুণ খেলছেন দ্য ফিজ। আটাশ বলে সাতচল্লিশ, টাইগারদের জন্য গলার কাটা হয়ে ওঠা লঙ্কান ওপেনারকে কাটার দিয়েই তুললেন ম্যাজিক মোস্তা।
বলের গতি একশো ষোলোর পর একশো বাইশ, পরপর দুইটা স্লোয়ারের পরের ডেলিভারিটা ঘণ্টায় একশো পঁয়ত্রিশ কিলোমিটারের ব্যাটারকে কনফিউসড করে চার নম্বর বলটায় গতি কমিয়েছেন বেশ, ব্যস নিশাঙ্কা খানিক আগে ব্যাট চালিয়েই মিসটাইমিংয়ে ধরা খেয়েছেন। মোস্তা যেন বলতে চাইলেন, একটু চালাক না হলে টেকা খুব কঠিন!
অনেকেই বলছে, আইপিএলে ধোনির সঙ্গে খেলে আর ডিজে ব্রাভোর তালিম পেয়ে গেইম অ্যাওয়ারনেস বেড়েছে, নতুন নতুন ট্যাকটিসও রপ্ত করেছেন মোস্তাফিজ। এই যেমন ধনঞ্জয়ার কাছে চার খেয়েই, চট করে রাউন্ড দ্য উইকেট চলে যান, ভিন্ন অ্যাঙ্গেল ক্রিয়েট করে ব্যাটারকে ধাঁধায় ফেলেন। মোস্তার স্লোয়ার, অফকাটার বুঝেই উঠতে পারছিলেন না লঙ্কান সিংহরা।
কাটার মাস্টার খ্যাত মোস্তাফিজ ডালাসের পিচে গতির ঝড়ও তুলেছেন, ঘণ্টায় একশো চল্লিশ কিলোমিটারের আশপাশে বেশকটা ডেলিভারি, ১৪৪ কিমি সর্বোচ্চ... মোদ্দা কথা, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামর্থ্যের পুরোটা দিতে পেরেছেন বাহাতি পেসার।
টাইগারদের পরের ম্যাচ নিউইয়র্কে, এরপর বাকি সব ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে। আমেরিকা আর ওয়েষ্ট ইন্ডিজের উইকেটের চরিত্র মোস্তাফিজের বোলিংয়ের জন্য পোয়াবারো। পিচে বল গ্রিপ করলে আর একটু স্লো সাইডে থাকলেই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ফেলবেন বাংলার ফিজ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ছয় উইকেট। বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচে দশ ডট দিয়ে সতেরো রানে তিন উইকেট, অসম্ভব সুন্দর এমন বোলিংই আসছে দিনগুলোতে সবার প্রত্যাশা।
অনুশীলন ছাড়াই ভারতের বিপক্ষে নামছে পাকিস্তান