বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬-এর মিনি নিলামে ৯.২০ কোটি রুপিতে কিনে নেওয়ার পর থেকেই কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বিতর্কের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার খবরের মধ্যে এই সই নিয়ে ভারতের একাংশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ কেকেআরের সহ-মালিক শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়েছেন, আবার কোথাও কোথাও ম্যাচ বয়কট বা পিচ আক্রমণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিতর্কের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বোর্ডের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, আমরা এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার কোনো নির্দেশনা পাইনি। এটা আমাদের হাতে নেই। বর্তমানে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না।
বিসিসিআই সূত্রে আরও জানা গেছে, বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। যদি ভবিষ্যতে কোনো নির্দেশ আসে, তাহলে তা মান্য করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি।
বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ আমাদের শত্রু রাষ্ট্র নয়। কূটনৈতিক পরিস্থিতি আমরা সবসময় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেখি, কিন্তু এখনও এমন কিছু শোনা যায়নি যা বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করতে বাধ্য করবে।
গত ডিসেম্বরের নিলামে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনে নেওয়ার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তীব্র হয়। আধ্যাত্মিক নেতা দেবকিনন্দন ঠাকুর কেকেআর ও শাহরুখ খানের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের খবরের মধ্যে এমন সই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনোবেদনা দেয়। কিছু রাজনৈতিক নেতাও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন—যেমনটা ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে করা হয়েছিলো।
অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন ক্রিকেটকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখা উচিত। মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএলে এখনও পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি রেট ৮.১৩। তিনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলেছেন। এবারের নিলামে সাতজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধিত হয়েছিলেন, কিন্তু শুধু মুস্তাফিজই দল পেয়েছেন—ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বাংলাদেশি হিসেবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে মুস্তাফিজের জন্য পূর্ণাঙ্গ এনওসি দেওয়া হয়েছে, যদিও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের কারণে তিনি আইপিএলের কিছু প্রাথমিক ম্যাচ মিস করতে পারেন।
বর্তমানে মুস্তাফিজের আইপিএল অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিসিসিআইয়ের অবস্থান থেকে মনে হচ্ছে, সরকারি নির্দেশ না এলে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হবে না।
