সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে যে জয়টি নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ছিল, সেটিই তারা করে দেখিয়েছে অত্যন্ত দাপটের সাথে। মঙ্গলবার ভারতের চেন্নাইতে ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে কোনো উইকেট না হারিয়েই ২৭ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে কিউইরা, সেই সঙ্গে গড়েছে বিশ্বরেকর্ডও।
ওপেনিং জুটিতে ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের অবিচ্ছিন্ন ১৭৫ রানের এই পার্টনারশিপটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে যে কোনো দলের জন্য সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে আমিরাতের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুহাম্মদ ওয়াসিম ও আলিশান শারাফু দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ১০৭ রানের জুটিটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। ওয়াসিম ৪৫ বলে ৬৬ এবং শারাফু ৪৭ বলে ৫৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। তাদের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে আরব আমিরাত।
ভারতের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খাবি খাওয়া নিউজিল্যান্ডের বোলাররা এদিন আমিরাতের বিপক্ষেও খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না। বিশেষ করে গ্লেন ফিলিপসকে দিয়ে ১৮তম ওভার করানোর সিদ্ধান্তটি ছিল বেশ অদ্ভুত। অভিজ্ঞ পেসার জ্যাকব ডাফির দুই ওভার হাতে থাকার পরও ফিলিপসকে বোলিংয়ে আনা হয়, এবং সেই এক ওভারেই তিনি ২৭ রান দের। তবে ম্যাট হেনরি ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে কিছুটা রাশ টেনে ধরেন।
১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই তারা স্কোরবোর্ডে ৭৮ রান তুলে ম্যাচটি একতরফা করে দেন। ফিন অ্যালেন ৪৬ বলে ৮৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
আগের ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে দ্রুত আউট হলেও এদিন তিনি ছিলেন অনেক বেশি সতর্ক। আমিরাতের স্পিনার হায়দার আলীর বিপক্ষে ঝুঁকি না নিয়ে বরং পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি ইনিংস সাজান।
অন্যদিকে টিম সেইফার্ট খেলেন বিধ্বংসী এক ইনিংস। মাত্র ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সেইফার্ট শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন সব রিভার্স হিট।
এই দুই ব্যাটারের তাণ্ডবে ১৬তম ওভারেই জয় নিশ্চিত হয় নিউজিল্যান্ডের। এই জয়ের ফলে গ্রুপ অফ ডেথে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে সুপার এইটের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রইল নিউজিল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের মাঠে হবে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ?