লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে নবাগত হায়দারাবাদ কিংসমানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শিরোপা ঘরে তুলল পেশোয়ার জালমি। আর এই জয়ের মহানায়ক হয়ে থাকলেন অজি অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডি, যার ব্যাটে-বলে বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের সামনে হায়দারাবাদের 'ফেয়ারিটেল' বা রূপকথার যাত্রা ট্র্যাজিক পরিণতি পেল।

পেশোয়ার অধিনায়ক বাবর আজমের জন্য এই জয় ছিল এক অন্যরকম প্রতিশোধের গল্প। জাতীয় দল থেকে বারবার বাদ পড়া আর সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হওয়া বাবর সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করলেন। যদিও ফাইনালের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিল ট্র্যাজেডি, প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক মেরে গ্যালারিতে স্তব্ধতা নামিয়ে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সতীর্থ অ্যারন হার্ডি হাল ছাড়েননি।
প্রথমে বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে হায়দারাবাদকে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে দেওয়া এবং পরে বিপর্যয়ের মুখে ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলে হার্ডি প্রমাণ করলেন কেন তিনি এই ম্যাচের আসল 'বস'। জয়ের রানটি আসতেই পুরো গাদ্দাফি স্টেডিয়াম হলুদ-গোলাপি জার্সির উন্মাদনায় আর 'বাবর-বাবর' চিৎকারে কেঁপে ওঠে।

১৩০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল পেশোয়ার। বাবর আজম, কুশল মেন্ডিস আর মাইকেল ব্রেসওয়েলরা যখন সাজঘরে ফিরছেন, তখন হায়দারাবাদ সমর্থকরা শিরোপার গন্ধ পেতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু আব্দুল সামাদকে (৪৮) সাথে নিয়ে ৮৫ রানের এক ম্যাচজয়ী জুটি গড়ে সব হিসেব পাল্টে দেন হার্ডি। জয়ের মাত্র ৫ রান বাকি থাকতে সামাদ আউট হলেও ততক্ষণে হায়দরাবাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছেন হার্ডি।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা হায়দারাবাদ কিংসমান পাওয়ার প্লে-তে ৬৯ রান তুলে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু পাওয়ার প্লের পরপরই শুরু হয় ছন্দপতন। মাত্র ৯ বলের ব্যবধানে ২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে তাদের মিডল অর্ডার। ইরফান খান ও কুশল পেরেরা হলেন রান আউট, আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে প্রথম বলেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখালেন বাংলাদেশের গতিদানব নাহিদ রানা। সাইম আইয়ুবের লড়াকু ৫৪ রানের ইনিংসের সৌজন্যে কোনোমতে ১২৯ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে তারা।

শুক্রবার রোমাঞ্চকর জয়ে দলকে ফাইনালে তোলার পর কান্নায় ভেঙে পড়া হায়দারাবাদ অধিনায়ক মার্নাস ল্যাবুশেন ম্যাচ শেষে পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে, বোলিংয়ে পেশোয়ারকে ৪০ রানে ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে চাপে ফেললেও বোর্ডে যথেষ্ট রান ছিল না। অন্যদিকে, অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম পিএসএল শিরোপা জিতে বাবর আজম একে অভিহিত করেছেন নিজের এবং দলের জন্য এক বিশাল অর্জন হিসেবে।
হার্ডি-সামাদের দাপট আর বাবরের নেতৃত্বের জাদুতে লাহোরের রাতটি হয়ে রইল পেশোয়ার জালমির হলুদ উৎসবের রাত। নবাগত হায়দারাবাদ কিংসমান লড়াকু ফুটবল উপহার দিলেও অভিজ্ঞ পেশোয়ারের পেশাদারিত্বের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো তারা।
