ফিফা বিশ্বকাপের আসর বসতে আর মাত্র ৩০ দিন বাকি, কিন্তু এরই মধ্যে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের তো মাথায় হাত, এবার স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই দাম নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের যে দাম ধরা হয়েছে, তা তিনি নিজেও দিতে রাজি নন।
আগামী ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। এই মেগা ম্যাচের টিকিটের দাম শুনে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। ফিফার মূল ক্যাটাগরির টিকিটের সর্বনিম্ন দাম শুরু হয়েছে ১,১২০ ডলার থেকে, আর উপরের সারির টিকিটের দাম পৌঁছেছে প্রায় ৩,০০০ ডলারে! ফলে একই ভেন্যুতে অন্যান্য ম্যাচের টিকিট হু হু করে বিক্রি হলেও, আমেরিকার উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিট বিক্রির গতি বেশ ধীর।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি অবশ্যই সেখানে (স্টেডিয়ামে) থাকতে চাই, কিন্তু সত্যি বলতে কি, এত টাকা আমিও দেব না। তিনি আরও যোগ করেন, বিক্রি রেকর্ড ভাঙলেও সাধারণ সমর্থকরা যদি খেলা দেখতে না পারে তবে তিনি খুব হতাশ হবেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, কুইন্স বা ব্রুকলিনের সাধারণ মানুষ, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভালোবাসে,তারা যদি টিকিটের দামের কারণে স্টেডিয়ামে যেতে না পারে, তবে সেটা হবে খুবই দুঃখজনক।”
এদিকে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও নিজের অবস্থানে অনড় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বেভারলি হিলসে এক কনফারেন্সে তিনি দাবি করেন, গ্রুপ পর্বের ২৫ শতাংশ টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের নিচেই রাখা হয়েছে। আমেরিকার পেশাদার খেলাধুলা বা কলেজ স্পোর্টসের টিকিটের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, আমেরিকা একটি উন্নত বিনোদনমূলক দেশ এবং এখানে টিকিটের দাম ‘মার্কেট রেট’ অনুযায়ীই হওয়া উচিত।

ইনফান্তিনোর মতে, কম দামে টিকিট ছাড়লে কালোবাজারিরা তা চড়া দামে বিক্রি করত, তাই ফিফাই দাম বেশি রেখেছে। সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি গর্ব করে জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, যা তাঁর মতে ‘অত্যন্ত সফল’।
টিকিট নিয়ে এই ‘অস্বচ্ছতা’ ও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে রাখার অভিযোগ এখন মার্কিন কংগ্রেস পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রতিনিধি ফ্রাঙ্ক প্যালোন এবং স্টেট সিনেটর নেলি পাউ ফিফা সভাপতিকে চিঠি পাঠিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। টুর্নামেন্ট শুরু হতে হাতে মাত্র এক মাস সময় থাকলেও টিকিটের দাম সাধারণের নাগালে না আসায় ফুটবল বিশ্বের এই মহারণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
