বাংলাদেশ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও একটি দারুণ ও রোমাঞ্চকর খবর! লেস্টার সিটির হামজা চৌধুরীর পর এবার বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে যুক্ত হতে চলেছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী দুই সহোদর ফারহান আলী ওয়াহিদ ও রায়ান আলী ওয়াহিদ।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই সুখবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। এই দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই ফারহানকে সরাসরি জাতীয় দলের জন্য এবং ছোট ভাই রায়য়ানকে বাফুফের বয়সভিত্তিক দলের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

ওয়াহিদ ভাইদের মধ্যে বর্তমানে ফুটবল পাড়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ১৮ বছর বয়সী ফারহান আলী ওয়াহিদকে নিয়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খ্যাতনামা ক্লাব ফুলহামের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে মাঠ কাঁপাচ্ছেন এই তরুণ তুর্কি।
চেলসির যুব একাডেমি থেকে ফুটবলের হাতেখড়ি হওয়া ফারহান ফুলহামের হয়ে বেশ কয়েকবার ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ মনোনীত হয়েছেন এবং গত নভেম্বরে তিনি এই পুরস্কারটি নিজের করে নেন। শুধু তাই নয়, প্রিমিয়ার লিগ-২ তে এবারের মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকাতেও শক্তভাবে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।
ভিডিও বার্তায় বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বিস্তারিত তুলে ধরেন কীভাবে এই ওয়াহিদ ব্রাদার্স বাংলাদেশের হয়ে খেলতে রাজি হলেন। তিনি বলেন, ঘটনাটির সূত্রপাত গত মাসে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি কোম্পানিতে কর্মরত অ্যাডাম রবার্টস নামের একজন ফুটবল এজেন্ট বাফুফেকে ইমেইলের মাধ্যমে জানান যে তিনি ফারহানের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং এই ফুটবলারকে নিয়ে বাফুফের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল মেইলটি পাওয়ার পরপরই আমাকে এবং টেকনিক্যাল টিমকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন। এরপরই আমরা ফারহানের এজেন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করি।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে জুমে একটি ফলপ্রসূ মিটিংয়ের পর ফারহানের বাবা তাঁর দুই ছেলেকে লাল-সবুজ জার্সিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য চূড়ান্ত সম্মতি দেন। বর্তমানে তাদের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথিপত্রের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ কিংবা মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই তাদের সব কাগজপত্র তৈরি হয়ে যাবে।
আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’কে সামনে রেখেই ফারহানকে দলে ভেড়ানোর জোর তোড়জোড় চলছে। ফাহাদ করিম বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে আমরা বাংলাদেশে যে টুর্নামেন্ট করার চিন্তা করছি কিংবা বাইরে খেলতে যাবো, সেখানে ফারহানকে স্বাগত জানাতে আমরা মুখিয়ে আছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা অবশ্যই ফারহানকে বাংলাদেশ স্কোয়াডে দেখতে চাই।
এদিকে ফারহানের ছোট ভাই রায়ান আলী ওয়াহিদও ফুটবলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। বর্তমানে ওকিং এফসিতে খেলা এই তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এর আগে ইংল্যান্ডের গ্রাসরুট লিগে অ্যাশফোর্ড এফসিকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন।

ডান পায়ে খেলতে অভ্যস্ত রায়ানের পজিশন মূলত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড বা উইংয়ে। রায়ানের বিষয়ে ফাহাদ করিম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রায়ান খুবই তরুণ এবং প্রতিভাবান। ও আমাদের অনূর্ধ্ব-১৭ কিংবা অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য এক দারুণ ও শক্তিশালী সংযোজন হতে পারে।
হামজা চৌধুরীর পর ইংল্যান্ডের লিগে খেলা এই দুই প্রবাসী তারকার অন্তর্ভুক্তি দেশের ফুটবলে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং বাংলাদেশ দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলেই বিশ্বাস দেশের ফুটবল বোদ্ধাদের।
