২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরছে হলুদ-নীল জার্সির সুইডেন। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য সবার আগেই ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন কোচ গ্রাহাম পটার। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন লিভারপুল তারকা আলেকজান্ডার ইসাক, যা সুইডিশ ভক্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। তবে, বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা রুনি বারদঘজির বাদ পড়া ফুটবল মহলে বেশ বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় প্রায় চার মাস মাঠের বাইরে ছিলেন আলেকজান্ডার ইসাক। এর ফলে গত মার্চে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে-অফের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারেননি। সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচেও কুঁচকির সমস্যার কারণে তিনি মাঠে নামতে পারেননি।

তবে সুইডিশ ম্যানেজমেন্ট আশাবাদী যে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই তিনি শতভাগ ফিট হয়ে উঠবেন। দেশের হয়ে ৫৬ ম্যাচে ১৬ গোল করা এই স্ট্রাইকারই হতে যাচ্ছেন পটারের আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র।
ইসাকের অনুপস্থিতিতে প্লে-অফে সুইডেনকে টেনে নিয়েছিলেন আর্সেনাল স্ট্রাইকার ভিক্টর ইয়োকেরেস। ইউক্রেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে তিনি এখন তুঙ্গে রয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগের শেষ ১৩ ম্যাচে ৯ গোল করা ইয়োকেরেস এবং ইসাক মিলে এক শক্তিশালী আক্রমণভাগ গঠন করবেন।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ে ভূমিকা রাখা ২০ বছর বয়সী রুনি বারদঘজিকে দলে না রাখাটা বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ মৌসুমে বার্সার হয়ে ২৬টি ম্যাচ খেললেও গ্রাহাম পটারের কৌশলে জায়গা হয়নি তাঁর। এছাড়া গুরুতর হাঁটুর ইনজুরির কারণে পুরো মৌসুম মাঠের বাইরে থাকা টটেনহ্যাম তারকা দেইয়ান কুলুসেভস্কিও অনুমিতভাবেই দলে নেই।

দল নির্বাচন প্রসঙ্গে কোচ গ্রাহাম পটার বলেন, এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। আমি এমন একটি দল বেছে নিয়েছি যারা ঐক্যবদ্ধভাবে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং একে অপরের সেরাটা বের করে আনতে পারে। একটি আসর সাধারণ কোনো ম্যাচের চেয়ে আলাদা, এখানে খেলোয়াড়দের সঠিক সংমিশ্রণ জরুরি।
সুইডেন তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার আগে নরওয়ে ও গ্রিসের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এরপর ১৪ জুন গুয়াদেলুপে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের এফ-গ্রুপের লড়াই। গ্রুপের অন্য দুই ম্যাচে তারা ২০ জুন নেদারল্যান্ডস এবং ২৫ জুন জাপানের মুখোমুখি হবে।
একনজরে সুইডেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক: ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্ড, ভিক্টর জোহানসন, জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম।
ডিফেন্ডার: ভিক্টর লিন্ডেলফ, ড্যানিয়েল সভেনসন, ইসাক হিয়েন, কার্ল স্টারফেল্ট, এলিয়ট স্ট্রাউড, গুস্তাফ ল্যাগারবিয়েলকে, গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসন, এমিল হোম, হ্যালমার একডাল, এরিক স্মিথ।
মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ড: আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস, তাহা আলি, ইয়াসিন আয়য়ারি, লুকাস বার্গওয়াল, অ্যান্থনি এলাঙ্গা, জেসপার কার্লস্ট্রম, গুস্তাফ নিলসন, বেঞ্জামিন নিগ্রেন, ম্যাটিয়াস সভানবার্গ, বেসফোর্ট জেনেলি, আলেকজান্ডার বার্নহার্ডসন, কেন সেমা।
