গত এপ্রিলে এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময় লামিন ইয়ামালের চোট পাওয়ার খবরটি পুরো ফুটবল বিশ্বে শঙ্কার ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। ভয় ছিল, ১৮ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক হয়তো শুধু ক্লাবের মৌসুমেই নয়, বরং ২০২৬ সালের পুরো বিশ্বকাপটাই মিস করতে যাচ্ছেন।
তবে সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে অবশেষে স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যোগ দেয়ার সবুজ সংকেত পেয়েছেন তিনি। আর দলে ফিরেই এই তরুণ তুর্কি অকপটে স্বীকার করেছেন সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা, যখন ড্রেসিংরুমে বসে তিনি বিশ্বকাপ মিস করার ভয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

ভয়াবহ সেই মুহূর্তটি এসেছিল গত ২২ এপ্রিল, সেল্টা ভিগোর বিরুদ্ধে বার্সেলোনার লা লিগার ম্যাচ চলার সময়। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ঠিক পরপরই বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে মারাত্মক চোট পান ইয়ামাল। এই ইনজুরির কারণে বার্সার হয়ে বাকি ম্যাচগুলোতে আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর।
রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের রিলিজ করা একটি ভিডিওতে ইয়ামাল সেই ক্ষণের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার স্পষ্ট মনে আছে চোট পাওয়ার সেই মুহূর্তটা। আমি মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলাম এটা যেন বড় কিছু না হয়, শুধু একটা ক্র্যাম্প বা সাধারণ কিছু হোক। কারণ, আমি চোখের সামনে বিশ্বকাপ দেখতে পাচ্ছিলাম। আগে কখনো হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে না পড়লেও আমি জানতাম, এই চোট সহজে সারে না এবং সুস্থ হতে বেশ লম্বা সময় লাগে।
স্পেনের এই ফরোয়ার্ড তাঁর মানসিক যন্ত্রণার কথা শেয়ার করে আরও বলেন, আমার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, চোট গুরুতর না হলেও যদি মাঠে ফেরার পর আবার নতুন করে সেখানে টান লাগে, তবে বিশ্বকাপ অধরাই থেকে যাবে। আপনি যখন ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন, তখন আপনার মনে হবে পুরো মরশুমে আপনি একটা ম্যাচও খেলেননি, সব মনোযোগ কেবল ওই এক জায়গাতেই থাকে। বিশ্বমঞ্চে অভিষেক করার জন্য আমি ছটফট করছি।
ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় বিশ্বকাপের আগে ইরাক ও পেরুর বিরুদ্ধে স্পেনের প্রীতি ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতেই বসে থাকতে হবে ইয়ামালকে। এমনকি আগামী ১৫ জুন কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে স্পেনের প্রথম গ্রুপ ম্যাচেও তাঁকে খেলানোর ঝুঁকি নেবেন না কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

তবে স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য সুখবর হলো, এইচ-গ্রুপে স্পেনের বাকি দুটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে দলের এই প্রধান অস্ত্রকে পুরোদমে পাওয়া যাবে। আগামী ২১ জুন মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরব এবং ২৬ জুন গুয়াদালাহারার এস্তাদিও আকরনে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে স্পেন। আর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো দিয়েই ফুটবল মহাযজ্ঞে অভিষেক হতে যাচ্ছে বার্সার এই পোস্টার বয়ের।
২০২৪ সালে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন ইয়ামাল। মাত্র দুই বছরেই তিনি স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন। নিজের প্রথম বিশ্বকাপ নিয়ে ইয়ামালের প্রত্যাশাও আকাশচুম্বী।
দলে রদ্রি, মিকেল ওয়ারজাবাল, পেদ্রি এবং মার্ক কুকুরেয়ার মতো বিশ্বমানের সতীর্থদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে ইয়ামাল প্রতিপক্ষদের সোজা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
তিনি বলেন, অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ চলে এসেছে। ইউরো জেতার পর থেকেই আমরা সবাই এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা এখানে এসেছি ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে, আমাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে এবং কাপ জয়ের জন্য আমরা মাঠে জানপ্রাণ লড়িয়ে দেব।
২৪ বছর পর তুর্কি ঝড়ের অপেক্ষায় বিশ্বকাপ