বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্যালন ডি’অরের আলোচনাটা যাদের ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছিলো- হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপে আর লামিন ইয়ামাল, তাদের সবাইকে এক ঝটকায় পেছনে ফেলে এখন স্পটলাইটের একেবারে কেন্দ্রে ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি! স্পেনের বিশ্বজয়ের পর আর গোল্ডেন বল হাতে নেওয়ার পর ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের পাওয়ার র্যাংকিংয়ে এমন এক ওলটপালট ঘটেছে, যা বিশ্ব ফুটবলের বাঘা বাঘা তারকাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট।
বিশ্বকাপে ৮টি ম্যাচে রদ্রি মোট ১২২২টি 'লাইন-ব্রেকিং' পাস দিয়েছেন, যা ২০১০ সালে সাবি আলোনসোর পর কোনো বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরো এবং এবার বিশ্বকাপ, এই চারটির সব কটি ট্রফি জেতার বিরল ও অভিজাত রেকর্ডে বিশ্বের মাত্র চারজন ফুটবলারের ক্লাবে প্রবেশ করলেন এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে বসতে যাওয়া ৭০তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তাই তাঁর হাতেই আবারও সোনার বলটি দেখার সম্ভাবনা প্রবল।

কেইন ও এমবাপের হতাশার গল্প: মৌসুম জুড়ে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করে ট্রফি ডাবল জিতে ব্যালনের সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন হ্যারি কেইন। কিন্তু সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ইংল্যান্ড বিদায় নেওয়ার পর তাঁর রাজপ্রাসাদ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ৬টি গোল করলেও ফাইনালের মঞ্চ না পাওয়া এবং ইউরোপীয় কোনো ট্রফি না থাকাটা কেইনের সব সমীকরণ এলোমেলো করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, গোল্ডেন বুট জিতে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়লেও কিলিয়ান এমবাপ্পের কপাল খোলেনি। ফ্রান্স ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ট্রফিহীন এক মরশুম কাটানোটা তাঁর ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্নকে ধূসর করে দিয়েছে।

ইয়ামাল ও মেসির চমক: মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইউরো ও বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে দুইটিতেই ট্রফি ছোঁয়ার অভাবনীয় কীর্তি গড়েছেন লামিন ইয়ামাল। আসরে তাঁর গোল সংখ্যা মাত্র ১ হলেও সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পেনাল্টি আদায় এবং ফাইনালে ইংল্যান্ড ডিফেন্স দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল মূল চালিকাশক্তি। বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতানোর পথে ২৮টি গোলে সরাসরি অবদান রাখা এই তরুণ এখনও ব্যালনের শক্ত দৌড়ে আছেন।
আর জীবনের ৩৯তম বর্ষে পা দেওয়া লিওনেল মেসি যেন বয়সকে শুধু বুড়ো আঙুলই দেখিয়েছেন! আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখান তিনি। যদিও ফ্রান্সের হয়ে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমবাপে গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নেন, তবুও মেসির এমন জাদুকরী পারফরম্যান্স প্রমাণ করে, সিংহের রাজত্ব এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি!
তথ্যসূত্র: স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড
