টেক্সাসের আর্লিংটনে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে টিকিট পাকা করেছে স্পেন। আর এই মহাকাব্যিক জয়ের পর স্পেনের নতুন প্রজন্মের পোস্টার বয় লামিনে ইয়ামালের চোখ এখন স্বপ্নের শহর নিউ ইয়র্কের দিকে। সোমবারই ১৯ বছরে পা রাখা বার্সেলোনার এই তরুণ তুর্কি ম্যাচের প্রথমার্ধে স্পেনের পক্ষে পেনাল্টি আদায় করেন, যা থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো স্পেনের জয় সুনিশ্চিত করেন।
ফাইনালে ওঠার আনন্দের জোয়ারে ভেসে পুয়ের্তো রিকান গায়ক ব্যাড বানির বিখ্যাত এক গানের সুর টেনে ইয়ামাল তাঁর ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, নিউ ইয়র্ক, আমরা আসছি তোমাদের জয় করতে! আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে নামবে স্পেন, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বুধবারের আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের জয়ী দল।

বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু করলেও, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি লা রোজাদের। মঙ্গলবার ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্পেনের দ্বিতীয় গোলটিতে অ্যাসিস্ট করা বার্সা উইঙ্গার দানি ওলমো দলের শক্তিমত্তা নিয়ে কখনোই সন্দিহান ছিলেন না। ড্রেসিংরুমে উল্লাসের সময় ওলমো বলেন, এটি তো ভাগ্যেই লেখা ছিল! আমরা আটলান্টা থেকে আমাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিলাম এবং নিউ ইয়র্কে গিয়ে এটি শেষ করতে যাচ্ছি। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছে চলে এসেছি, চল এবার ট্রফিটা ছিনিয়ে আনি!

অথচ চলতি টুর্নামেন্টে প্রথম ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করে উড়তে থাকা ফ্রান্সকে এই সেমিফাইনালে ফেবারিট ধরা হয়েছিল। কিন্তু দেশমের সেই শক্তিশালী ফরাসি বাহিনীকে মাঠের খেলায় বোতলবন্দী করে ফাইনালে পা রাখল স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে উঠল স্প্যানিশ আর্মাডা। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আসলে কী অর্জন করে ফেলেছি, তা এখনও আমাদের ড্রেসিংরুমের কেউ পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। দিন যত যাবে, এই অনুভূতি তত স্পষ্ট হবে।

রিয়াল সোসিয়েদাদের অধিনায়ক মিকেল ওয়ারজাবাল চলতি বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোলটি করে স্পেনের কিংবদন্তি ডেভিড ভিয়া এবং এমিলিয়ানো বুত্রাগুয়েনোর এক বিশ্বকাপে ৫ গোল করার ঐতিহাসিক রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। শিরোপা জয়ের একদম দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ওয়ারজাবাল বলেন, আশা করি আর মাত্র পাঁচ দিন পর আমরা এই স্বপ্নের ওপর চূড়ান্ত প্রলেপ দিতে পারব। আমাদের স্বপ্ন দেখার এবং শিরোপা নিজেদের নজরে রাখার সবটুকু অধিকার আমরা অর্জন করেছি। ফাইনালে যদি আমি গোল না করেও দলকে সাহায্য করার সুযোগ পাই, তবে আমি সমান খুশি হব।
টানা জয়ে উড্ডীয়মান ফ্রান্সের অহংকার চূর্ণ করে স্পেনের এই ফাইনাল যাত্রা ফুটবল বিশ্বে এক নতুন রূপকথার জন্ম দিয়েছে। এখন শুধু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মহাকাব্যিক ফাইনালে শেষ হাসির অপেক্ষায় পুরো স্প্যানিশ শিবির।
