আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালের মহাযুদ্ধের আগে মাঠের বাইরের এক নতুন বিতর্কে তোলপাড় ইংলিশ ফুটবল। কোচ থমাস টুখেলের এক মন্তব্যের জবাবে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন দলের প্রাণভোমরা জুড বেলিংহাম। তবে, বুধবারের রাতে মহোৎসবের আগে পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে আসরে নেমেছেন স্বয়ং টুখেল। বেলিংহামের সাথে সম্পর্কের সব ফাটলের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, তাদের মধ্যকার সম্পর্ক আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন ঢের বেশি মজবুত!
টুখেল এবং বেলিংহামের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে গুঞ্জন অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত গ্রীষ্মে জার্মান কোচ এক সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে বলেছিলেন যে, মাঠে বেলিংহামের কিছু অঙ্গভঙ্গি তার মায়ের কাছে অত্যন্ত ‘বিরক্তিকর’ মনে হয়েছে। যদিও পরে সেই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন টুখেল। এবারের বিশ্বকাপে বেলি কিন্তু কোচের অধীনেই ফুল ফুটিয়ে চলেছেন। গত শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে (৬) নিয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।

বিতর্কের নতুন সূত্রপাত হয় নরওয়ে ম্যাচের পরেই। কোয়ার্টার ফাইনালে দলের জয় সত্ত্বেও ম্যাচ শেষে টুখেল মন্তব্য করেছিলেন, তিনি দলের পারফরম্যান্সে একেবারেই সন্তুষ্ট নন। কোচের এমন সমালোচনা মুখ বুজে সহ্য করেননি বেলিংহাম। তিনি ফ্ল্যাশ ইন্টারভিউতে কোচের ট্যাকটিকস ও দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করে দলের মধ্যে ইতিবাচক আবহ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যম ‘টকস্পোর্ট’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ড্রেসিংরুমের হাওয়া পরিষ্কার করেন টুখেল। তিনি বলেন, আমি সত্যিই ভাবি, কারা এই বিষয়গুলো নিয়ে তিলকে তাল করে! এখানে জলঘোলা করার মতো কিছুই ঘটেনি, যা হয়েছে তা মিডিয়া বানিয়েছে। মাঠে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করে আসা একজন ফুটবলারকে যদি আপনি কোচের প্রশংসা বাদ দিয়ে শুধু নেতিবাচক অংশটুকু শোনান, তবে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে? আপনি তাকে বললেন না যে সে বিশ্বমানের খেলেছে, অথচ গিয়ে বললেন, তোমার কোচ বলেছে তোমরা এলোমেলো খেলেছ, তাহলে সে রেগে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক!
কোচ আরও যোগ করেন, আমরা দুজনেই প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ জায়গা থেকে উঠে এসেছি। আমি দলকে তাদের সীমানার শেষ পর্যন্ত পুশ করতে পছন্দ করি। জুডকে যেভাবে প্রশ্ন করা হয়েছিল তা অন্যায় ছিল। তবে আমাদের মধ্যে কোনো ফাটল নেই। আমরা আগের চেয়েও কাছাকাছি আছি, যা মাঠের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট। ড্রেসিংরুমের শক্তি ও মানসিকতা এখন তুঙ্গে।

নরওয়ে ম্যাচের পর বেলিংহাম কোচের ফুটবলার ক্যারিয়ার নিয়ে কিছুটা খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, আর্লিং হ্যালন্ডের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে এমন বৈরী আবহাওয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা হয়তো কোচের নিজের নেই!
টুখেলও অকপটে স্বীকার করেছেন যে ফুটবলার হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার বড়জোর ‘মাঝারি মানের’ ছিল। তবে এটি তাঁর কোচিং দক্ষতায় কোনো প্রভাব ফেলে না দাবি করে টুখেল এক রসাত্মক মন্তব্যে বলেন, ফুটবলার হওয়া তো আমারও স্বপ্ন ছিল, কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি এই পর্যায়ের একজন কোচ হব। ড্রেসিংরুমে দাঁড়িয়ে এখনও আমার মনে হয়, আহারে এই মাঠে যদি আমি খেলতে পারতাম! তবে কোচ হতে গেলে যে বড় ফুটবলার হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। একটা বিখ্যাত কথা আছে না, ভালো জকি (ঘোড়সওয়ার) হতে গেলে কিন্তু নিজেকে ঘোড়া হতে হয় না!
কোচ ও সেরা তারকার এই মনস্তাত্ত্বিক বরফ গলে যাওয়ার পর, এখন মাঠের লড়াইয়ে লাতিন পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে বধ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত থমাস টুখেলের থ্রি-লায়ন্স বাহিনী।
