আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে রাত ১টায় যখন ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালের মহারণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তখন ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার গুরুভার মাথায় নিয়েও সম্পূর্ণ নির্ভার থমাস টুখেল। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবেক চেলসি ও বায়ার্ন মিউনিখ বস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৬০ বছরের ইতিহাস কিংবা মাঠের বাইরের কোনো চাপ তাঁকে কাবু করতে পারছে না। বরং জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেনের মতো ক্ষুধার্ত সিংহদের নিয়ে আলবিসেলেস্তেদের বধ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত থ্রি-লায়ন্সরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা লিওনেল মেসির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই ৬টি করে গোল করে ইংল্যান্ডের আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেলিংহাম ও কেন। টুখেল বলেন, আমি ইতিহাসের কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করছি না। উত্তেজনা থাকবে, কিছুটা স্নায়ুচাপও থাকবে, যা এই ধরনের বড় ম্যাচে খুবই স্বাভাবিক। তবে আমার সবচেয়ে ভালো লাগছে এটা দেখে যে, আমাদের খেলোয়াড়েরা প্রচণ্ড প্রতিযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা নিয়ে ম্যাচটির জন্য ক্ষুধার্ত ও রোমাঞ্চিত হয়ে আছে। এই দুটি দলের জার্সিই ফুটবল ইতিহাসের এক একটি আইকন। ম্যাচটিকে ঘিরে অনেক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও আবেগ জড়িয়ে আছে, যা ফুটবল প্রেমীরা এক দেখাতেই চিনে ফেলেন।
১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ড কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতেনি। এর আগে বিশ্বকাপে দুই দল পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে সবচে আলোচিত ১৯৮৬ সালের সেই কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এছাড়া ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড পাওয়ার সেই ম্যাচটিও ইংলিশ ভক্তদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। টুখেল স্বীকার করেছেন যে খেলোয়াড়েরা এই বৈরিতার ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হলেও, একজন কোচ হিসেবে তিনি বিষয়টিকে স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন এবং মাঠের কৌশলে মনোযোগ দিচ্ছেন।
ম্যাচের আগে বড় স্বস্তি ফিরেছে ইংলিশ শিবিরে। অসুস্থতা কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন দলের প্রধান মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস। তবে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শেষ ১৬-র ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসাক এই ম্যাচেও নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে থাকছেন।
প্রতিপক্ষ অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে বলতে গিয়ে টুখেল বলেন, মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স ব্যাখ্যা করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ৮ গোল করে ও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। আর্জেন্টিনার পুরো দলটির মধ্যে এক চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে। স্কালোনির মতো একজন অভিজ্ঞ কোচের অধীনে ওরা দীর্ঘদিন ধরে একই দল নিয়ে খেলে অভ্যস্ত। আমরা জানি আমাদের সামনের বাধাটা কত বড়, তবে আমরা তা পার করতে প্রস্তুত।
সেমিফাইনালে ওঠার পথটা দুই দলের জন্যই বেশ কণ্টকাকীর্ণ ছিল। আর্জেন্টিনা যেমন ধুঁকতে ধুঁকতে উঠেছে, তেমনি ইংল্যান্ডকেও কঙ্গো, মেক্সিকো এবং নরওয়ের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জার্মান মাস্টারমাইন্ড বলেন, কোচ হিসেবে এটি আমার প্রথম বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের শুরুতেই সব কিছু নিখুঁতভাবে মিলে যাবে, এমনটা ভাবা ভুল। আমরা আর্জেন্টিনার সেরা রূপটির মুখোমুখি হতেই মাঠে নামব এবং আমাদের নিজেদের সেরাটাই দিতে হবে। আমরা এখনও আমাদের পারফরম্যান্সের চূড়ায় পৌঁছাইনি, তবে এই ম্যাচটিই আমাদের সেরাটা বের করে আনবে।
মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে স্পেন ইতিমধ্যেই ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বুধবারের এই মহাসংগ্রামে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে রবিবার ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত মঞ্চে স্পেনের মুখোমুখি হবে থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
ড্রেসিংরুমের হাওয়া পরিষ্কারে ব্যস্ত ইংলিশ বস!
বিতর্ক উড়িয়ে স্কালোনির ফোকাস শুধুই ফুটবলে
ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিতে আর্জেন্টিনার ‘দিয়েগো মন্ত্র’